নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সুনীল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশের কাজে লাগতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ঢাকা চায়না ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। শিক্ষা ও উন্নয়নে দুই দেশের বন্ধুত্ব, আস্থা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভেট), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিল্প-শিক্ষা সংযোগ এবং ব্লু ইকোনমিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নে ‘চীনা মডেল’ গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, জাতি শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে আছে, তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই ‘আগামীর বাংলাদেশ’ গড়তে তাদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে কাজ করছি।
বাংলাদেশের জনমিতিক সুবিধা বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এটি দেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রেও চীনের সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।
শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে চীনের অভিজ্ঞতা অনুসরণীয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে একটি মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। একইভাবে চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উন্নয়নেও কাজ চলছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি), সবুজ প্রযুক্তি ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ চলছে। রোবটিক্স ও ব্লু ইকোনমির মতো সম্ভাবনাময় খাতেও চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারে।

বাংলাদেশকে ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে আরও যুগোপযোগী ও মানসম্মত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, তরুণরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের শিক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ফরাসউদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান।
এমএইচ/এফএ