নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় সরকার। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্প খাতের সংযোগ, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়ন এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দ্বিতীয় চায়না-বাংলাদেশ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিনিময় গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ, সাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একসময় চীনও বিপুল জনসংখ্যার দেশ ছিল। তবে পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটি সেই জনসংখ্যাকে জাতীয় সম্পদে পরিণত করেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও জনসংখ্যাকে বোঝা হিসেবে না দেখে সম্পদে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানবসম্পদ। আমাদের দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষই কর্মক্ষম যুবসমাজ। ১৮ কোটি মানুষের এই জনমিতিক সুবিধা আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে যখন জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের কাছে রয়েছে একটি তরুণ ও প্রাণবন্ত জনগোষ্ঠী।
এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগানোর এখনই সময় উল্লেখ করে এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত, এমন আলোচনা বাংলাদেশে প্রায়ই হয়। কিন্তু চীনের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে জনসংখ্যাই একটি দেশের প্রধান সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
সম্প্রতি নিজের চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় দেশটি কীভাবে জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করেছে, তা তিনি দেখেছেন। বিশেষ করে শিল্প খাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে সমন্বয় চীন গড়ে তুলেছে, সেটিকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন তিনি।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, টেকসই সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো অপরিহার্য। রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রযুক্তিগত ও কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার জোর দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক সইয়ের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দও পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
মানবসম্পদের পাশাপাশি সমুদ্র অর্থনীতিকেও দেশের বড় সম্ভাবনার জায়গা হিসেবে তুলে ধরেন এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ২০০ নটিক্যাল মাইল এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন রয়েছে। এক লাখ বর্গকিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত এই সমুদ্র এলাকায় বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। চীনের গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরাও এ বিষয়ে কাজ করছেন। ফলে সমুদ্র অর্থনীতিকে ঘিরে শিক্ষা ও গবেষণায় দুই দেশের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ব্লু ইকোনমি ও সার্কুলার ইকোনমিকে কেন্দ্র করে বিশেষায়িত গবেষণায় গুরুত্ব দিচ্ছে। সমুদ্রসম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে। এই সম্পর্কের ভিত্তিতে শিক্ষা, প্রযুক্তি, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ/এএস