Dhaka Mail Logo

শিক্ষা / সারাদেশ

এক বছরে ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার কাজ করেছে জাকসু

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) এক বছরে প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার কাজ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের দাবি করেছে। এর বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে জাকসুকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ১৮ লাখ টাকা। বাকি অর্থের বড় অংশ স্পনসর ও বহিরাগত বিভিন্ন উৎস থেকে এসেছে বলে জানিয়েছে জাকসু।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জাকসু ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জাকসুর এজিএস ফেরদৌস আল হাসান। তিনি জানান, এক বছরে মোট ৩৩৮টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে জাকসু।

জাকসুর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নে ২৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২১টি আবাসিক হলে কম্পিউটার, ডেস্কটপ ও টেবিল স্থাপনে ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং হলগুলোতে গরম-ঠান্ডা পানির ফিল্টার স্থাপনে ৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আবাসিক হলগুলোতে হুইলচেয়ার সরবরাহে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

এ ছাড়া ১৬টি আবাসিক হল ও কেন্দ্রীয় মন্দিরে ধর্মীয় পাঠাগার স্থাপনে ৮ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ‘টিউটর হাব’, ‘কেনাবেচা জাবি’ ও ‘ব্লাড কানেক্ট জেইউ’ ওয়েবসাইট তৈরিতে যথাক্রমে ৪৫ হাজার, ৫০ হাজার ও ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। শিক্ষার্থী বাসে ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করতে প্রায় ২ লাখ টাকার সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে।

3e10d28f-4e86-4a33-81fd-dab984a19673

ক্যারিয়ার, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণামূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের কথা জানিয়েছে জাকসু। বিনামূল্যে IELTS, কম্পিউটার, ভাষা ও গবেষণাপদ্ধতিবিষয়ক বিভিন্ন কোর্স আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির বড় অংশ স্পনসরের অর্থায়নে হয়েছে বলে জানানো হয়।

জাকসুর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জব ফেয়ারে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। এতে ব্যয় হয়েছে ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাকসুর তহবিল থেকে খরচ হয়েছে দেড় লাখ টাকা। মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক ফ্রি কাউন্সেলিং ক্যাম্পে ৮০০-এর বেশি শিক্ষার্থী সেবা নেন। এ কর্মসূচির আর্থিক মূল্য প্রায় ৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বলে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া সাইকেল ও স্কুটি প্রশিক্ষণে প্রায় ৫৫০ নারী শিক্ষার্থী অংশ নেন। সাত দিনের এ প্রশিক্ষণে স্পনসর প্রতিষ্ঠান ২০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করেছে বলে জানানো হয়। ‘জাকসু রান’-এ ৭ লাখ ৮৫ হাজার, ‘জাকসু নাইট’-এ ৫ লাখ ২০ হাজার এবং নারী হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টে দেড় লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচিতেও বড় অংশের অর্থ স্পনসরদের কাছ থেকে এসেছে বলে জানানো হয়।

আরও পড়ুন

জাকসুর ম্যাগাজিন ‘৩৬ এ তেত্রিশ’ এর মোড়ক উন্মোচন

জাকসুর এজিএস ফেরদৌস আল হাসান বলেন, “প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া ১৮ লাখ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন স্পনসর ও বহিরাগত উৎসের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের জন্য এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এক বছরে প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার কাজ হয়েছে।”

তবে জাকসুর এক বছরের আর্থিক কার্যক্রমের অডিট প্রতিবেদন আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন এজিএস ফেরদৌস আল হাসান।

প্রতিনিধি/এসএস