Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

প্রাথমিক শিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়লেও কমেনি বৈষম্য: সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তি, বিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা এবং ছেলে-মেয়ের সমতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও শিক্ষার সুযোগ ও মানের ক্ষেত্রে বৈষম্য এখনো রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। বিশেষ করে ধনী ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষার সুযোগের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে বলে সংস্থাটির গবেষণায় উঠে এসেছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিডি ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সরকার কি প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে? প্রাথমিক শিক্ষার ওপর আলোকপাত’ শীর্ষক সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

সিপিডির নবনিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলে-মেয়ের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত হলেও অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতে শিশুদের শিক্ষার সুযোগে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শুধু বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করলেই শিক্ষার মান নিশ্চিত হবে না। তাদের বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগও তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, জিপিএ-নির্ভর পড়াশোনা থেকে বের হয়ে বিতর্ক, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন জীবনদক্ষতা অর্জনের সুযোগ শিক্ষার্থীদের দিতে হবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। কারণ শুধু জিপিএ-৫ কোনো শিক্ষার্থীর মেধা ও সক্ষমতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে না।

সিপিডির প্রতিবেদনে বলা হয়, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সময়ে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি, বিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা এবং ছেলে-মেয়ের সমতা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই অগ্রগতি অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। বন্যা ও কোভিড-১৯-এর মতো বড় ধরনের সংকটে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়েছে।

প্রতিবেদনে প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ধারার শিক্ষার মধ্যে বিভাজনকে বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সনদের মানের পার্থক্যের কারণে শিক্ষার্থীদের শিখনফল এবং মানসম্মত শিক্ষার সুযোগেও বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিপিডি।

সিপিডির মতে, শুধু প্রাথমিক শিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ বাড়ালেই হবে না। প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ও তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ঘোষিত নীতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

এএইচ/এএম