Dhaka Mail Logo

শিক্ষা / সারাদেশ

নোবিপ্রবির উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) তৃতীয় অ্যাকাডেমিক ভবন, কেন্দ্রীয় গবেষণাগার, কেন্দ্রীয় মসজিদ, ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে Engineers Consortium Limited-কে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তিন বছরের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিবেদন জমা দিতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চুক্তির আওতায় প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি কাজ, বিদ্যমান নকশা পর্যালোচনা, প্রয়োজনীয় নকশা ও প্রাক্কলন (এস্টিমেশন) প্রস্তুত, নির্মাণকাজ তদারকি এবং নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরিসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি।

প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মহিনুজ্জামান বলেন, পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কাজ ও নকশার প্রস্তুতি এগিয়ে রাখা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসব কাজ পর্যালোচনা করে কোনো ঘাটতি বা প্রয়োজনীয় সংশোধন থাকলে তা চিহ্নিত করে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেবে।

২০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিবেদন—

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চুক্তি অনুযায়ী কাজের ধরনভেদে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিভিন্ন প্রতিবেদন জমা দিতে হবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটিকে। চুক্তির ২০ দিনের মধ্যে তৃতীয় অ্যাকাডেমিক ও কেন্দ্রীয় গবেষণাগার ভবনের প্রতিবেদন, ৩০ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় মসজিদের প্রতিবেদন এবং ৭০ দিনের মধ্যে প্রস্তাবিত ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া ৯০ দিনের মধ্যে বৈদ্যুতিক উপাদানের প্রাক্কলন (এস্টিমেশন) সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্দিষ্ট সময়সীমার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণকাজের অগ্রগতিও নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি। তৃতীয় একাডেমিক ও কেন্দ্রীয় গবেষণাগার ভবনের অবশিষ্ট নির্মাণকাজ, নোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মসজিদের উল্লম্ব সম্প্রসারণ (ভার্টিক্যাল এক্সটেনশন) এবং প্রস্তাবিত ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্মাণকাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রতি মাসে জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া প্রকল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী বিবিধ কাজের প্রতিবেদনও জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে নির্বাচিত Engineers Consortium

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়ায় প্রথমে এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (EOI) আহ্বান করা হয়। এতে অংশ নেওয়া ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়। পরবর্তীতে রিকুয়েস্ট ফর প্রপোজাল (RFP) আহ্বান করা হলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দেয়।

নির্ধারিত মূল্যায়ন মানদণ্ড অনুযায়ী প্রস্তাবগুলো মূল্যায়নের পর Engineers Consortium Limited সর্বোচ্চ স্কোর অর্জন করে। পরে মূল্যায়ন টিম, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আলোচনা ও নেগোসিয়েশন অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

তিন বছরের চুক্তিতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান

পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ তিন বছর। প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মহিনুজ্জামান বলেন, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানটির দেশের বিভিন্ন বড় প্রকল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনাসহ ৪০০ অধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এ অভিজ্ঞতার কারণে প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নের একটি অংশ। তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি দিকনির্দেশনা দেবে এবং তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

ধাপে ধাপে এগোচ্ছে উন্নয়নকাজ

প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মহিনুজ্জামানের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় অ্যাকাডেমিক ভবন, কেন্দ্রীয় গবেষণাগার, কেন্দ্রীয় মসজিদ, ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছর থেকেই প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের প্রাক্কলন ও অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসব অবকাঠামো নির্মাণ ও সম্প্রসারণ সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা সুবিধা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

উল্লেখ্য, গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাসান উদ্দীনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি/এজে