বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২১ পিএম
সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমিয়ে বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাতটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভ মিছিলে ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ভাইবা কোটার ঠাঁই নাই’, ‘তদবিরের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, রাবিয়ানরা জেগেছে’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, ভাইবা মার্কের খবর দে’, ‘মেধাবীদের কান্না, আর না আর না’, ‘আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আবু ইয়াকুব বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক একটি সিদ্ধান্ত। আমাদের দেশে কীভাবে মামা, চাচা, খালুর সুপারিশের মাধ্যমে চাকরি হয়, তা আমরা জানি। ভাইভার নম্বর বাড়ানোর ফলে এভাবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই নিয়োগ হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেখানে আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, সেখানে আবার বৈষম্য মেনে নেওয়া যাবে না।’

মলিকুলার বায়োলজি ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘ভাইভার নম্বর ২০ থেকে ৫০-এ নিয়ে যাওয়ায় যাদের মামা, খালু, এমপি-মন্ত্রী আছে, তাদের জন্য ভালো হয়েছে। তারা সারা বছর ঘুরে চাকরি পেয়ে যাবে, আর একজন শিক্ষার্থী সারা বছর পড়াশোনা করেও চাকরি পাবে না। এতে মেধাবীরা চাকরি না পেয়ে হীনমন্যতায় ভুগবে। মেধাবীরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে না গেলে দেশের উন্নতি হবে না। সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা যেন কোনোভাবেই প্রজ্ঞাপন আকারে জারি না হয়। আমরা এটি কোনোভাবেই মেনে নেব না।’
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান বলেন, ‘১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে অযৌক্তিকভাবে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর পরিকল্পনায় সারা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাই নীরব হয়ে আছে। মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে সরকারের এই অদূরদর্শী ও মেধাধ্বংসী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য আজ সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদের আয়োজন করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও যেমন সোচ্চার ছিলাম, অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলাম। এই সরকারও যদি এমন অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এই সরকারের বিরুদ্ধেও সোচ্চার থাকব। অবিলম্বে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।’
প্রতিনিধি/এসএস