Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৭ পিএম

দেশের কোনো শিশু যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে শিশুদের নৈতিকতা ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমানে দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে এখনও প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ শিক্ষা ও সাক্ষরতার বাইরে রয়েছে। শতভাগ সাক্ষরতার লক্ষ্য অর্জনে এই জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আওতায় আনতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের দ্রুত বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে ‘অ্যাক্সেলারেটেড ফাউন্ডেশনাল এডুকেশন’ চালুর ওপর গুরুত্ব দেন ববি হাজ্জাজ।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ফাউন্ডেশনাল জিনিসগুলো শিখিয়ে স্কুলে তাড়াতাড়ি ফেরত পাঠানো যায় এবং স্কুলে যেন তারা যায়, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী অনেক ব্যবস্থা করছেন। মিড ডে মিল, ইউনিফর্ম এবং আগামীতে যদি আরো কিছু প্রয়োজন হয়, সেটারও ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রী দেবেন। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রজেক্টের দায়িত্ব স্কুলে ফেরত নিয়ে আসা থ্রু এক্সেলারেটেড লার্নিং।’

boby_hazzaz-2তিনি বলেন, শুধু সাক্ষরতা অর্জন করলেই হবে না। শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা দিতে হবে, যা ভবিষ্যতে তাদের কর্মসংস্থান ও ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করবে। এ জন্য শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়নকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, আগের শিক্ষা প্রকল্পগুলো কাঙ্ক্ষিত ফল না দিলে সেগুলোতে রিস্কোপিং, রিডিজাইনিং ও রিফোকাসিং করতে হবে। অর্থাৎ প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্পের পরিধি, নকশা ও লক্ষ্য পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।

স্কিলভিত্তিক শিক্ষা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৪০টি জেলার ৪০টি উপজেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা খাতে বর্তমানে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামীতে তা ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে এই অর্থ শুধু অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় না করে শিশুদের স্কুলে ফেরানো, সাক্ষরতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নেও কাজে লাগাতে হবে।

শতভাগ সাক্ষরতার লক্ষ্য অর্জনে সরকার, এনজিও, শিক্ষক-প্রশিক্ষক ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

এমএইচ/এমআর