Dhaka Mail Logo

শিক্ষা / সারাদেশ

ফল প্রকাশে বিলম্বে সেশনজট, ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তায় যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩১ এএম

সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ না হওয়ায় একাডেমিক কার্যক্রমে ভোগান্তিতে পড়ছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস, পরীক্ষা ও কোর্স নিবন্ধনসহ বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে সেশনজটের আশঙ্কার পাশাপাশি বিশেষ করে শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির আবেদনে সময়সীমা মিস করার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও নম্বর জমা না হওয়ায় অনেক সময় ফল প্রকাশে বিলম্ব হয়। কোনো কোনো বিভাগে একটি বা দুটি কোর্সের নম্বর জমা না হওয়ায় পুরো সেমিস্টারের ফল আটকে থাকে। এতে পরবর্তী সেমিস্টারের প্রস্তুতি ও একাডেমিক পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

বিশেষ করে শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা বেশি সমস্যায় পড়ছেন বলে জানান তারা। সময়মতো ফলাফল, ট্রান্সক্রিপ্ট ও অন্যান্য একাডেমিক কাগজপত্র না পাওয়ায় বিদেশে উচ্চশিক্ষা, বিভিন্ন বৃত্তি এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরির আবেদনে নির্ধারিত সময়সীমা মিস করার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, কেউ কেউ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সফলভাবে শেষ করেও প্রয়োজনীয় একাডেমিক কাগজপত্র সময়মতো জমা দিতে না পারায় চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। অনেকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ভর্তির আবেদনও সময়মতো করতে পারেননি।

JUST

ফল প্রকাশে বিলম্বের প্রভাব পড়ছে পরবর্তী একাডেমিক কার্যক্রমেও। একটি সেমিস্টারের ফল প্রকাশে দেরি হলে পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস ও পরীক্ষার সময়সূচিও পিছিয়ে যায়। অনেক সময় পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস কার্যক্রম শেষের দিকে আগের সেমিস্টারের ফল প্রকাশ করা হয়। এতে কোনো শিক্ষার্থী কোনো কোর্সে পুনঃপরীক্ষা (রিটেক) দিলে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে প্রস্তুতির সুযোগ পান না।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতার কারণে একাডেমিক পরিকল্পনার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে। দীর্ঘ অপেক্ষায় তাদের মধ্যে মানসিক চাপ ও হতাশা বাড়ছে।

ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে সেশনজটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এক সেমিস্টারের কার্যক্রম পিছিয়ে গেলে পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস, পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের সময়সূচিও পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাজীবন শেষ করা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

jobi-20260124144305

শিক্ষার্থীদের দাবি, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশ নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো শিক্ষক বা এক্সটার্নাল পরীক্ষকের কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব হলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুরো ফল প্রকাশ প্রক্রিয়াকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আনা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফল প্রকাশে বিলম্বের অন্যতম প্রধান কারণ এক্সটার্নাল পরীক্ষকদের কাছ থেকে সময়মতো মূল্যায়ন করা উত্তরপত্র ও নম্বরপত্র ফেরত না পাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্ধারিত সময়ে খাতা পাঠানো এবং প্রয়োজনীয় সম্মানী পরিশোধ করা হলেও বিভিন্ন একাডেমিক ব্যস্ততা ও অন্যান্য কাজের কারণে অনেক সময় তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাতা মূল্যায়ন শেষ করে জমা দিতে পারেন না। এর ফলে পুরো ফলাফল প্রস্তুত ও প্রকাশের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়।

JESSORE-67a6da431735b

প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সমস্যা সমাধানের সময়সীমা সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, ‘আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব। চলমান সেমিস্টারেই হয়ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তবে পরবর্তী সেমিস্টার থেকে ফল প্রকাশের এই দীর্ঘসূত্রিতা অনেকটাই কমিয়ে আনা যাবে বলে আমরা আশা করছি।’

প্রতিনিধি/এসএস