নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। ‘স্ট্রেনদেনিং অ্যাগ্রিকালচারাল টারশিয়ারি এডুকেশন প্রজেক্ট (এসএটিইপি)’ নামের পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বর্তমানে সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে কৃষি গবেষণার উৎকর্ষকেন্দ্র এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক গবেষণা ও জ্ঞান হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে দেশের অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও বিনিয়োগ করা হবে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে এডিবির প্রতিনিধি দলের এক পরামর্শ সভায় প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। ইউজিসি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে এডিবি ১০৫ মিলিয়ন এবং কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক বা ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (কেএক্সিম/ইডিসিএফ) ৫৫ মিলিয়ন ডলার দেবে। বাকি অর্থের জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার। ২০২৭ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় কৃষি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কৃষি শিক্ষাকে শিল্প ও কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পাঠক্রম ও অ্যাকাডেমিক কাঠামো আধুনিকায়ন, গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষক-গবেষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি গবেষণার জন্য একটি আধুনিক ইনস্ট্রুমেন্টেশন সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে জলবায়ু, কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং গবেষণার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
এছাড়া কৃষি গবেষণা ও শিক্ষায় রিমোট সেন্সিং, জিপিএস, জিআইএস, ড্রোন, ডিজিটাল টুইন, ওয়েদার অ্যানালিটিকস, বিগ ডেটা অ্যানালিটিকস, বায়োটেকনোলজি ও রোবটিকসের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গবেষণা ও উদ্ভাবনের ফলাফল কৃষি খাত ও বাজারে পৌঁছে দেওয়াও প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য। গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারত্ব এবং গবেষণা, শিল্প ও উদ্যোক্তার মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ থাকবে। তরুণদের কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রি-স্টার্টআপ, স্টার্টআপ ও ইনকিউবেশন পর্যায়েও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় এডিবির সিনিয়র সোশ্যাল সেক্টর ইকোনমিস্ট ও মিশন লিডার রিওতারো হায়াশি বলেন, আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে বাকৃবির শিক্ষা ও গবেষণার সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বাকৃবির সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। গবেষণা, উদ্ভাবন, শিল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগও থাকবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, প্রকল্পটি কৃষি, উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে ইউজিসি কাজ করছে।
তিনি বলেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিদ্যমান সক্ষমতার বৈষম্য কমিয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্টার্টআপ, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, প্রকল্পটি শিক্ষার্থীদের আধুনিক দক্ষতায় দক্ষ করে কর্মবাজারের উপযোগী করে তুলতে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরিতেও এটি ভূমিকা রাখবে।
সভায় ইউজিসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান ভূঁইয়া, বাকৃবির প্রকল্প ফোকাল পয়েন্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুল আলম ভূঁইয়া, ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক সুরাইয়া ফারহানাসহ ইউজিসি, বাকৃবি ও এডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এম/এএইচ