Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

চীনের শিক্ষা মডেল অনুসরণে আগ্রহী বাংলাদেশ, সহজ হচ্ছে শিক্ষকদের ভিসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

চীনের শক্তিশালী ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ’ মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশের শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কর্মসংস্থানমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে চীন থেকে বাংলাদেশে ভাষাশিক্ষক আসার ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড চায়না ইন এডুকেশন সেক্টর’ শীর্ষক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘চীন সফরে আমরা দেখেছি, তাদের ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ অত্যন্ত শক্তিশালী। আমরাও সেই মডেলটি অনুসরণ করতে চাই। চীনের শিক্ষাব্যবস্থাও অত্যন্ত উন্নতমানের। তারা এ দেশের শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপও প্রদান করছে।’

চীন থেকে ভাষাশিক্ষক আসার ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্যও ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের শিক্ষা খাতে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন অংশ নেন।

এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে ২৫ থেকে ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক চীন সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। সফরে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে শিক্ষামন্ত্রী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া ছিলেন। বৈঠকে সফরটিকে অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সফরকালে চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, দ্বিভাষিক শিক্ষাসামগ্রী, শিক্ষা-শিল্প সংযোগ, গবেষণা কেন্দ্র, শিল্প প্রশিক্ষণ, চীন সফর ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ কাজ করবে।

এ ছাড়া সফরকালে তিনটি বড় সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়। এগুলো হলো—চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার, বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার এবং বাংলাদেশ ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ+ স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ সহযোগিতা কেন্দ্র।

বৈঠকে বলা হয়, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ-চীন দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের শিক্ষা, ব্যবহারিক দক্ষতা, শিল্পের চাহিদা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের মধ্যে আরও কার্যকর সংযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হয়।

চীনের শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি দুই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এমএইচ/এআর