Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

এনটিআরসির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ চালু রাখার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

এনটিআরসির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, শিক্ষকদের শতভাগ উৎসব ভাতা ও নবম পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তিসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে এমপিও, নন-এমপিও, ইবতেদায়ীসহ সব শিক্ষকের প্রত্যাশা পূরণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের কাছে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

জাতীয় শিক্ষক ফোরামের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, শিক্ষায় বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা। রাষ্ট্রের ওপর চাপ কমাতে এসব প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা দেওয়া এবং নবম পে-স্কেলে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল চালুরও দাবি করেছে সংগঠনটি।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সঞ্চিত সমুদয় অর্থ বিধি অনুযায়ী একসঙ্গে পরিশোধের দাবি জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, হয়রানি রোধে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।

মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে এনটিআরসির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের অযথা হস্তক্ষেপ বন্ধ করে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি করা হয়েছে।

স্কুল, কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষায় বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম। বদলি কার্যক্রম সহজতর করা এবং স্থগিত থাকা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানদের নিয়োগের ভাইভা নিয়ে দ্রুত নিয়োগ দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ চার যুগ ধরে বৈষম্যের শিকার।

শিক্ষাক্রম দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বোধ-বিশ্বাসের আলোকে প্রণয়ন এবং শিক্ষার সব স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষায় ব্যবহারিক পরীক্ষা চালুর প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি।

দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়ে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম বলেছে, এ ক্ষেত্রে ‘আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া’ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এ ছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ, ফ্যাসিবাদের আমলে সংঘটিত সব দুর্নীতির বিচার এবং অবসর ও কল্যাণ তহবিলের আট হাজার কোটি টাকা লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। এমপিওভুক্ত কলেজে অনার্সে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্তির আওতায় আনার দাবিও করেছে সংগঠনটি।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক নাছির উদ্দীন। প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। এ সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/এমআই