বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে Youth Impact Summit 2026 অনুষ্ঠিত হয়েছে। তরুণদের দক্ষতা, কণ্ঠস্বর ও নেতৃত্বের বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এ সামিটে তরুণদের নেতৃত্ব, দক্ষতা ও সামাজিক পরিবর্তনে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের ১০ম তলার মিনি কনফারেন্স রুমে এ সামিট অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাঙ্গন কার্যক্রম দপ্তর, চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশন (সিডব্লিউএফ) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং ক্লাব যৌথভাবে এ আয়োজন করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার। প্রধান আলোচক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইমরানুল হক।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি স্টারের গ্রোথ এডিটর আজাদ বেগ এবং বিডিজবসের হেড অব প্রোগ্রাম অ্যান্ড অ্যাক্টিভেশন মোহাম্মদ আলী ফিরোজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ্ ইসরাত আজমেরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনিসুর রহমান তালুকদার বলেন, বাস্তব জীবনে দক্ষতা, কণ্ঠস্বর ও নেতৃত্ব—এই তিনটি বিষয় একে অপরের পরিপূরক। নেতৃত্বের চর্চা শ্রেণিকক্ষ থেকেই শুরু হয়। তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তাঁর নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হয়।
তিনি বলেন, অনেকে নেতৃত্ব বলতে রাজনৈতিক পদকে বোঝেন। কিন্তু কর্মজীবন ও বাস্তব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে হয়।
পরিশ্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে আনিসুর রহমান তালুকদার বলেন, পরিশ্রম থাকলে যেকোনো কিছু সম্ভব। কোনো কাজে একবার ব্যর্থ হলে আবার চেষ্টা করতে হবে। দুই বা তিনবার চেষ্টা করেও সফল হওয়া সম্ভব।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, তরুণরাই একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে পারলে তাঁরা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি দেশ ও সমাজের পরিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তিনি বলেন, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে তরুণদের শুধু একাডেমিক জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না। তাঁদের যোগাযোগ দক্ষতা, চিন্তাশক্তি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার গুণ অর্জন করতে হবে। নিজেদের কণ্ঠকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শাহ্ ইসরাত আজমেরী বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্র হোক কিংবা মাঠপর্যায়ের কাজ, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তরুণদের জন্য দক্ষতা, কণ্ঠস্বর ও নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটির সমন্বয়ে নিজেদের দক্ষতা ও সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারলে তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তরুণদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশ তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের তরুণরা নিজেদের মেধা, সংস্কৃতি, শান্তিপূর্ণ মানসিকতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে কাজে লাগাতে পারলে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ধৈর্য ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে কাজ করলে দক্ষতা বাড়বে, কণ্ঠস্বর ও আত্মবিশ্বাস আরও শক্তিশালী হবে। এর মাধ্যমে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাও তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে তরুণদের দক্ষতা, কণ্ঠস্বর ও নেতৃত্ব বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে সেরা পাঁচজনকে পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ছাড়া চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দ্য ডেইলি স্টারের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাকিব মাদবরকে Youth Impact Award 2026 দেওয়া হয়।
জবি প্রতিবেদক/এআর