Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উদযাপনে সব মাদরাসাকে জরুরি নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম

আগামী ২৬ আগস্ট (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি) পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনে দেশের সকল স্তর ও পর্যায়ের মাদরাসাকে বিশেষ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর এস এম তৌহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনী, কর্ম, এবং ইসলামে শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্ব-ভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে দেশের সকল প্রতিষ্ঠানে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালন করতে হবে।

মাদরাসাসমূহের করণীয় জরুরি নির্দেশনাবলী

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি ও অধিভুক্ত মাদরাসায় বাধ্যতামূলকভাবে নিম্নোক্ত কার্যক্রমসমূহ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—

আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল: মহানবী (সা.)-এর পবিত্র জীবনী ও মানবকল্যাণে তার অবদান, সাম্য, প্রগতি ও বিশ্ব-ভ্রাতৃত্বের শিক্ষার ওপর আলোকপাত করে আলোচনা সভা এবং বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করতে হবে।

সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা: শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে হামদ-নাত পরিবেশনা, স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং বিষয়ভিত্তিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

কুইজ প্রতিযোগিতা: মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্মের ওপর শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সকল প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, সুপার, প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং পরিচালনা কমিটির (গভর্নিং বডি/ম্যানেজিং কমিটি/এডহক কমিটি) সংশ্লিষ্টদের অবিলম্বে উল্লিখিত নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ঘোষিত ১৩টি জাতীয় কর্মসূচি

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে আয়োজিত জাতীয় সভায় গৃহীত ১৩টি মূল সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি:

১. বাণী প্রদান: মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে বিশেষ বাণী প্রদান করবেন।

২. জাতীয় পতাকা উত্তোলন: পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর দিন সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর সদর দফতরসহ সকল স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে।

৩. কালেমা তায়্যিবা ও ব্যানার প্রদর্শন: ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ট্রাফিক আইল্যান্ড ও লাইটপোস্টে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি সবুজ জমিনের ওপর সাদা রঙে ৫'×৩' সাইজের কালেমা তায়্যিবা লেখা ব্যানার ও রঙিন পতাকা প্রদর্শন করা হবে।

৪. সচিবালয় মসজিদে দোয়া: ১২ রবিউল আউয়াল দিন ও তার পরবর্তী কার্যদিবসে বাংলাদেশ সচিবালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বাদ জোহর বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে।

৫. ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাসব্যাপী আয়োজন ও বইমেলা: বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ প্রান্তে মাসব্যাপী ইসলামিক বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে ও ওয়াজ মাহফিল, কিরাত মাহফিল, সেমিনার/টকশো, হামদ-নাত, আরবি খুতবা লিখন প্রতিযোগিতা এবং বিশেষ স্মারক/ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।

৬. দেশব্যাপী ওয়াজ ও আলোচনা: সকল বিভাগ, জেলা, উপজেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং দেশব্যাপী সকল মসজিদে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে।

৭. বিশেষ অনুষ্ঠান ও ক্রোড়পত্র: বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।

৮. শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি: মাদরাসা বোর্ডসহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিশু একাডেমি, ওয়াকফ প্রশাসন ও বিদেশে অবস্থিত হজ অফিসসমূহে (আশকোনা ও জেদ্দা) আলোচনা, কুইজ ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে হবে।

৯. শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন: বাংলাদেশ শিশু একাডেমির উদ্যোগে শিশুদের জন্য হামদ-নাত, রচনা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন থাকবে।

১০. উন্নতমানের খাবার পরিবেশন: দেশের সকল সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, এতিমখানা, বৃদ্ধ নিবাস ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে বিশেষ ও উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।

১১. বিদেশের মিশনগুলোতে উদযাপন: বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনসমূহে যথাযথ মর্যাদায় দিনটি পালন করা হবে।

১২. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার উদ্যোগে মহানগরী ও শহরের রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন রাখার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৩. আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বাজি/গান নিষিদ্ধ: দিনটি উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পবিত্র পরিবেশ বজায় রাখতে ঈদের দিন, তার পূর্বের দিন এবং পরের দিন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো অনৈসলামিক বা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান (যেমন: যাত্রা, জারিগান, আতশবাজি ইত্যাদি) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

বিস্তারিত নির্দেশনা জানতে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি দেখুন।

এসএইচ/এফএ