বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের ওপর হামলার অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জোর করে অফিসে প্রবেশ, মারধর, হত্যার উদ্দেশে আঘাত, ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
রাকসুর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মতিহার আমলি আদালতে মামলাটি করেন সালাহউদ্দিন আম্মার। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন বলে রাকসু সূত্রে জানা গেছে।
মামলায় আসামি করা হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস, সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ও মামুন মিয়া, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজুল ইসলাম নয়ন এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আজহারুল ইসলামকে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুপুর পৌনে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনের জিএস কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সালাহউদ্দিন আম্মার ছাড়াও রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব এবং মেহেদী নামে আরও একজন আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আদালতে দেওয়া আবেদনে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ঘটনার সময় তিনি জিএস কার্যালয়ে বসে দাফতরিক কাজ করছিলেন। এ সময় আসামিরা লোহার রড, বাঁশ ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা রাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় উঠে ২০২ নম্বর কক্ষে জোর করে প্রবেশ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, কার্যালয়ে ঢুকে আসামিরা তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। এ সময় কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাব ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, হামলার প্রতিবাদ করতে গেলে নাজমুস সাকিব ও মেহেদীকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আসামি আনাস লোহার রড দিয়ে নাজমুস সাকিবকে হত্যার উদ্দেশে আঘাত করেন। আঘাত ঠেকাতে গেলে তার ডান হাতে রক্তাক্ত জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নাজমুস সাকিবকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আসামি মাহিন মেহেদীর বাম কানে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, ‘মামলাটি আদালত গ্রহণ করেছে। বর্তমানে এটি পিবিআইয়ের তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
মামলার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমার সম্পাদকদের ওপর হামলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শুধু উদ্বেগ জানিয়ে রাখার জন্যই মামলা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশে যাতে খেলা না হয়, সে বিষয়েও আমরা সতর্ক।’
আদালতে দেওয়া আবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৪১, ৩৪৮, ৩২৪ ও ৪২৭ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার নম্বর ১৫১ সি/২৬ (মতিহার)।
প্রতিনিধি/এসএস