নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য ১২ লাখের বেশি আবেদন পড়েছে। এত বিপুলসংখ্যক খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা সম্ভব নয় বলে এ বিষয়ে নীতিমালা করার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। গুরুতর সমস্যা রয়েছে, এমন খাতাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়ার পর দেখা গেছে, প্রায় সবাই খাতা পুনর্মূল্যায়ন করাতে চান। সব আবেদন গ্রহণ করে পুনর্মূল্যায়ন করতে হলে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর খাতা আবার দেখতে হবে, যা বাস্তবে সম্ভব নয়। তাই কোন ধরনের খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, সে বিষয়ে নীতিমালা করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে যারা আবেদন করেছেন, তাঁদের সবাইকে পুনর্মূল্যায়নের আওতায় নেওয়া হবে না। যেসব খাতায় গুরুতর সমস্যা রয়েছে, সেগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এর মাধ্যমে পরীক্ষকেরা সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়ন করেছেন কি না, নম্বর কম বা বেশি দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হবে।
কোনো পরীক্ষকের মূল্যায়নে সমস্যা পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জিপিএ-৫ বা গোল্ডেন প্লাস পাওয়ার পরও অনেকে পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করছেন। ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে নম্বরের গুরুত্ব থাকায় এ সুযোগের অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিষয়টি নীতিমালার আওতায় আনা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ১২ লাখের বেশি আবেদনের নিষ্পত্তি করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। একই সময়ে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে। সব খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে গেলে ভর্তি কার্যক্রমেও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতে পারে।
খাতা মূল্যায়নে কোনো অনিয়ম বা অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। এ ধরনের সমস্যা চিহ্নিত করতে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাদরাসা ও স্কুলে প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। নতুন নিয়োগের আগে দূর-দূরান্তে কর্মরত শিক্ষকদের বদলির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিগগিরই এ কার্যক্রম শুরু হবে। বদলি শেষ করে নতুন নিয়োগের দিকে যাওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের অবসর ভাতা সারা দেশে দেওয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তুতিও বিভিন্ন পর্যায়ে শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ বিষয়ে চলমান মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেটিও শেষ হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই মৌখিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
এমএইচ/এআর