বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩১ এএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বহনকারী ‘কালীগঙ্গা’ বাসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বনদক্ষিণ বাজার এলাকায় স্থানীয় লোকজন বাসটিতে হামলা চালান। এতে বাসের চালকসহ অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আহতদের মানিকগঞ্জ ও সিংগাইর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে মানিকগঞ্জগামী জবির ‘কালীগঙ্গা’ বাসটি বনদক্ষিণ বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন বাসটিতে হামলা চালান। এ সময় বাসের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। আহতদের মধ্যে দুজন গুরুতর বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক বলেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত যতটুকু তথ্য পেয়েছি, চালকসহ অনেকেই আহত হয়েছেন। একজন শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে গেছে। আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
জবির পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, ‘মানিকগঞ্জে আমাদের একটি বাসে স্থানীয় লোকজন হামলা করেছেন। বাসের কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে। আনুমানিক ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত। একজনের মাথা ফেটে গেছে এবং আরেকজনের বুকে ভাঙা কাচ ঢুকেছে। আহত শিক্ষার্থীদের মানিকগঞ্জ ও সিংগাইর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলার কারণ সম্পর্কে ড. তারেক বিন আতিক বলেন, বাসটি একটি অটোরিকশাকে ওভারটেক করার চেষ্টা করেছিল। অটোরিকশাচালক সাইড না দেওয়ায় বাসের কয়েকজন শিক্ষার্থী নেমে তাঁকে ধাক্কা দিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এর জেরে অটোরিকশাচালক স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাসটিতে হামলা চালান বলে তিনি জানিয়েছেন।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, সিংগাইর সড়কে একটি দুর্ঘটনার পর স্থানীয় একটি ঘটনায় বাসটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটি ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।
ওসি বলেন, ‘তারা হয়তো মনে করেছে, এ ঘটনায় বাসটি জড়িত। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁরা মামলা করলে তা নেওয়া হবে।
এদিকে হামলার ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, ‘ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মামলা করার বিষয়ে কথা হয়েছে। হামলায় যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল, তাদের কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং স্থানীয় ওসির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। মামলা করা হচ্ছে। আমি মানিকগঞ্জে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি এখন ।