Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে ‘সায়েন্স টয়’ ও ‘ম্যাথ ল্যাব’

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও সৃজনশীল হিসেবে গড়ে তুলতে কারিকুলামে ‘সায়েন্স টয়’ ও ‘ম্যাথ ল্যাব’ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং অ্যাকশন ট্র্যাকার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিশুদের শুধু বইনির্ভর শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে হাতে-কলমে কাজ ও খেলাধুলার মাধ্যমে বিজ্ঞান শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে প্রাথমিকের কারিকুলামে ‘সায়েন্স টয়’ যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষায় বিজ্ঞান, গণিত, ডিজাইন ও সৃজনশীলতার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে আনন্দদায়ক ও বাস্তবমুখী করতে কারিকুলামের সঙ্গে ‘সায়েন্স টয়’ এবং বিভিন্ন ধরনের হাতে-কলমে শেখার উপকরণ যুক্ত করা হবে।’

একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এ ল্যাবে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা আকার, আকৃতি, গুণ, ভাগ, যোগ-বিয়োগসহ গণিতের মৌলিক ধারণা হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাবে।’

State_Minister_for_Mass_Education_Bobby_Hajjaj
ইউনিসেফ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং অ্যাকশন ট্র্যাকার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি- সংগৃহীত

ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ের ঘাটতি পূরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো- প্রতিটি শিশুর পড়া, লেখা ও গণিতে মৌলিক দক্ষতা নিশ্চিত করা। কোনো শিক্ষার্থী পরবর্তী শ্রেণিতে উঠলেও তার ভিত্তিগত শিক্ষায় ঘাটতি থেকে গেলে ভবিষ্যতের শিক্ষাজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন’দের শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।’

মিড-ডে মিল কর্মসূচির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যেসব সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা সামনে এসেছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি পাইলট প্রকল্পের সফলতা শুধু কতসংখ্যক মানুষের কাছে এর সুবিধা পৌঁছেছে, তা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। বরং বাস্তবায়নের সময় কী ধরনের সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে এবং সেগুলো কতটা কার্যকরভাবে সমাধান করা হয়েছে, সেটিও মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

প্রাথমিক শিক্ষার প্রকল্পগুলোকে শুধু দর্শননির্ভর না রেখে বাস্তব ও কার্যকর করার ওপরও জোর দেন ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, ‘সরকারের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাদর্শন থাকবে। তবে সেই দর্শন বাস্তবায়নে প্রতিটি প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম, বাস্তবায়ন কাঠামো, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দর্শন হলো দেশের প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। তবে কোনো প্রকল্প মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের সময় সেটিকে অবশ্যই অপারেশনাল হতে হবে। ধাপে ধাপে কীভাবে কাজটি বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং কীভাবে তা মনিটরিং করা হচ্ছে, সেসব বিষয়ে আমরা আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তুলছি।’

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।

এম/এএম