Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

অপতথ্যের ভিড়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা বড় চ্যালেঞ্জ: ভিসি আমানুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম

তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের এ সময়ে অপতথ্য ও ভুয়া সংবাদের ভিড়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ এবং গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বর্তমান সময়ে সংবাদ পরিবেশনে তথ্যের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি কঠিন। তাই জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের আরও স্বাধীন, অনুসন্ধানী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীল চর্চাই একটি দেশ ও সমাজকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে ‘গণমাধ্যম বিষয়ক তিন মাস মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্স ২০২৬’-এর নতুন ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ভিসি আমানুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। বিপরীতে অসত্য তথ্য, গুজব ও অপতথ্য খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সমাজে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে সাংবাদিকতার মান উন্নয়ন, তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।’

ড. আমানুল্লাহ বলেন, ‘সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়; এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে সাংবাদিকতার সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাংবাদিকদের সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রযুক্তি, দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন করতে হবে।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ‘২০২৭ সালের জুনের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোর্সেই সেশনজট থাকবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে গতি আনা, সিলেবাস আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে ব্যাপক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। বিশ্বমানের দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালু, সিলেবাস আধুনিকায়ন এবং বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়কে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।’

শিক্ষার্থীদের প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কর্মজীবনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরির বিষয়ে ভিসি বলেন, ‘চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুরনো ও গতানুগতিক সিলেবাস পরিবর্তন করে যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক মানের দক্ষতায় গড়ে তোলার পাশাপাশি কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ এবং আনন্দময় ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের মননশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে ‘পারফর্মিং আর্টস কলেজ’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ড. আমানুল্লাহর গতিশীল নেতৃত্বে নতুন উচ্চতায় এগিয়ে যাচ্ছে। বিগত সাত বছর ধরে পিআইবি দীর্ঘ সেশনজটের মুখোমুখি ছিল। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই স্থবিরতা কাটতে শুরু করেছে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু পিআইবি নয়, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং বিশ্বমানের কোর্স ও কারিকুলাম প্রণয়নেও ড. আমানুল্লাহ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।’

পিআইবির সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষ থেকে দুজন বক্তব্য দেন। এসময় পিআইবির সমন্বয়ক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং প্রশিক্ষণার্থী সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এম/এএইচ