নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
ঢাকা কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি কলেজ প্রশাসন। তবে প্রশাসন বলছে, কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার কলেজ প্রশাসনের পূর্বানুমতি নিয়ে ২ নম্বর গ্যালারিতে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। সংগঠনটির দাবি, অনুষ্ঠানের ব্যানার টানানোর সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক আব্দুল মালেক আহত হন। পরে ঘটনাটি দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাই পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা কলেজ ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে সায়েন্সল্যাব ও নিউমার্কেট এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ছাত্রশিবিরের ২০ জন এবং ছাত্রদলের সাতজন নেতাকর্মী আহত হন দাবি দুই পক্ষের।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক পিয়াল হাসান বলেন, কলেজ প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি যেহেতু ঘটে গেছে, এখন এটি কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে স্যারকে দেখতে বলেছি। যেহেতু এটি দুইটি সংগঠনের মধ্যকার সংঘর্ষ, তাই দুই পক্ষেরই কিছু না কিছু প্রমাণ বা এভিডেন্স রয়েছে। তবে আমি সরাসরি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলিনি।
পিয়াল হাসান আরও বলেন, ঘটনার পর তাদের একজন নেতাকর্মীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথা ছিল। সেটি করা হয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। কেন্দ্র থেকে মামলা করার নির্দেশনা দেওয়া হলে তারা মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে ঢাকা কলেজ ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মামুন শেখ অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের ঘটনায় কলেজ প্রশাসন যথাযথ ভূমিকা পালন করছে না।
তিনি বলেন, কলেজ প্রশাসন পুরোপুরি বিএনপি সরকারের প্রতি আনুগত্যশীল। একজন সরকারি কর্মকর্তা যেভাবে সরকারের আনুগত্য করেন, কলেজ প্রশাসনও ঠিক সেভাবেই আচরণ করছে। চোখের সামনে এত বড় অন্যায় ঘটার পরও তারা বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। এখন পর্যন্ত তারা আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগও করেনি। এমনকি আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। এ ধরনের ভূমিকার জন্য কলেজ প্রশাসনের প্রতি আমাদের লজ্জা ছাড়া আর কিছুই নেই।
তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রশাসনের কাছে কোনো লিখিত বা মৌখিক দাবি জানানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে মামুন শেখ বলেন, তারা কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। কমিটিতে দায়িত্বশীল এবং কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম ব্যক্তিদের রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কমিটি গঠনে কিছুটা সময় লাগছে। আশা করছি, রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। কোনো ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে।
কলেজে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে সব ছাত্রসংগঠনকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, জুলাইয়ের কর্মসূচিতেও নোটিশের মাধ্যমে সব সংগঠনকে সভায় অংশগ্রহণ ও বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল। কোনো সংগঠনকে আলাদাভাবে লক্ষ্য করে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ সহজেই সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে। কিন্তু কোনো ঘটনা যখন দলীয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তখন পরিস্থিতি ভিন্ন হয়। সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় এবং সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হয়। ফলে প্রশাসনের সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।
এদিকে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার বিষয়ে অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে চায় কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ জন্য সব পক্ষের ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এম/এএস