নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
গবেষণা প্রকল্পের প্রস্তাব মূল্যায়নে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারী গবেষক ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় গোপন রেখে বিশেষ কোডের মাধ্যমে গবেষণা প্রস্তাব মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য রিভিউয়ারদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে মূল্যায়নকারী নির্বাচন করা হবে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমিতে হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ‘উপ-প্রকল্প মূল্যায়ন পরিচিতি’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘হিট প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের গবেষণা উপ-প্রকল্প নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রস্তাব তৈরি, জমা ও মূল্যায়নের প্রতিটি ধাপে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গবেষণা অর্থায়নের জন্য জমা দেওয়া প্রস্তাবগুলোতে গবেষক ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় গোপন রেখে কোডের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। এতে ব্যক্তিগত পরিচয়, প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব কিংবা তদবিরের সুযোগ থাকবে না।’
অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘হিট প্রকল্পের প্রথম ধাপে উপ-প্রকল্প নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। যদিও বাস্তবতার সঙ্গে সেই ধারণার যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে, তবু গবেষক সমাজে এ ধরনের কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখতে চায় না ইউজিসি। তাই দ্বিতীয় ধাপে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রকৃত গবেষকদের খুঁজে বের করতে চাই। প্রকল্প নির্বাচনে ব্যক্তিগত পরিচয় নয়, গবেষণার গুণগত মান, নতুনত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাবই হবে মূল বিবেচ্য।’
ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, ‘গবেষণা প্রস্তাব মূল্যায়নের জন্য তিনটি উৎস থেকে সম্ভাব্য রিভিউয়ারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আবেদনকারীদের প্রস্তাবিত বিশেষজ্ঞ, গুগল ফর্মের মাধ্যমে আগ্রহ প্রকাশকারী গবেষক এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে থাকা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রাথমিক প্যানেল গঠন করা হয়। পরে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গবেষণা প্রকাশনা, অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা যাচাই করে চূড়ান্ত রিভিউয়ার প্যানেল নির্ধারণ করে।’
তিনি আরও জানান, ‘প্রতিটি গবেষণা প্রস্তাবের জন্য পৃথক কোড নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পে ছয় থেকে আটজন সম্ভাব্য রিভিউয়ার থাকলেও লটারির মাধ্যমে তাদের মধ্য থেকে দুজনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো রিভিউয়ার জানতে পারবেন না কোন গবেষণা প্রস্তাব তার কাছে মূল্যায়নের জন্য যাচ্ছে।’
অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘শুধু গবেষণায় অর্থায়ন বাড়ালেই হবে না, অর্থায়ন ও মূল্যায়নের প্রক্রিয়াও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে। গবেষকদের আস্থা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিবেশ গড়ে তুলতে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি জানান, গত বছর অর্থায়ন পাওয়া ১৮০টি গবেষণা প্রকল্প নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থের অপব্যবহার বা নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার প্রমাণ মিললে অর্থায়ন বন্ধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্মশালায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী, হিট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. আসাদুজ্জামানসহ ইউজিসি ও হিট প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ/এএম