বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা–কর্মী এবং অন্তত ছয়জন সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের আগে এ ঘটনা ঘটে।
জকসু সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের পরিবর্তে স্থায়ী আবাসিক হল নির্মাণ, মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাসেবা উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের পরিকল্পনা ছিল। ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে দাবিগুলো উপস্থাপন করতে জকসুর প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা–কর্মীরা কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি, পরে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। জকসুর অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা তাদের প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলে এবং হামলা চালায়।
সংঘর্ষে জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফসহ কয়েকজন আহত হন বলে জকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা ট্রিবিউনের সুহায়েল আহমেদ, মোহন খন্দকার, স্টার নিউজের জুয়েল মিয়া, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রজব আল ফাহিম ও কামরুজ্জামান কায়েসের নাম জানানো হয়েছে।
জকসুর এজিএস মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাতে গেলে ছাত্রদল দুই দফায় হামলা চালায়। তিনি বলেন, এতে ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির এবং জকসুর একাধিক প্রতিনিধি আহত হন। জকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ ফারুকের পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মারুফ অভিযোগ করেন, ছাত্রদল বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এ সময় প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি; বরং তাদের আচরণ ছিল নীরব দর্শকের মতো। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আর সংঘর্ষ ও সহিংস রাজনীতি দেখতে চাই না।’
অন্যদিকে, এ ঘটনায় ছাত্রদলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: জবিতে বাসের ওপর উপড়ে পড়ল গাছ
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এদিন কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন হোসেন। অনুষ্ঠানস্থলের সামনে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের পরিবর্তে স্থায়ী আবাসিক হল নির্মাণের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন জকসু, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রফ্রন্টের নেতা–কর্মীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরে দফায় দফায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্রফ্রন্টসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের শতাধিক নেতা–কর্মী আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। আহতদের কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, আর কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
প্রতিনিধি/এমআই