Dhaka Mail Logo

শিক্ষা / সারাদেশ

বাকৃবিতে চার আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, তদন্তে দুই কমিটি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) চার আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পৃথক দুটি সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

রোববার রাত থেকে সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত পৃথক দুই ঘটনায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী, আশরাফুল হক ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সোমবার (৩ আগস্ট) ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, সংঘর্ষের ঘটনাগুলো তদন্তসাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি কমিটি সোহরাওয়ার্দী ও আশরাফুল হক হল–সংশ্লিষ্ট এবং অন্যটি শামসুল হক ও আশরাফুল হক হল–সংশ্লিষ্ট ঘটনার তদন্ত করবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, আহতদের চিকিৎসা এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল টিমের হস্তক্ষেপে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে, রাত প্রায় ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসিল মোড় এলাকায় একটি চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে আশরাফুল হক ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবার সংঘর্ষ বাধে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

9c2203c7-0956-4ffc-a54d-a6c24bbd0800

সোহরাওয়ার্দী হলের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, আব্দুল জব্বার মোড় এলাকায় তাকে মারধর করা হয়। হামলায় তার চশমা ভেঙে যায় এবং মানিব্যাগ হারিয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে মাওলানা ভাসানী হলের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘটনার জন্য উভয় পক্ষের দায় রয়েছে। প্রশাসনের উচিত সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

এদিকে আশরাফুল হক হলের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ফসিল মোড়ে চায়ের দোকানে বসে থাকার সময় শামসুল হক হলের একদল শিক্ষার্থী তাদের ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে শামসুল হক হলের এক শিক্ষার্থী দাবি করেন, পূর্বের বিরোধের জেরে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং গুজব ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

আরও পড়ুন

বাকৃবিতে ‘শিক্ষকদের ধারাবাহিক শিক্ষা ও উন্নয়ন’ বিষয়ক কর্মশালা

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, উপাচার্যের সভাপতিত্বে প্রোভোস্ট কাউন্সিল, প্রক্টরিয়াল বডি ও অ্যাডভাইজরি বডির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। বিভিন্ন হল থেকে পাওয়া তথ্য, প্রশাসনের পর্যবেক্ষণ ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর এক সপ্তাহ আগেও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আশরাফুল হক ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হন। একইভাবে, শনিবার রাতে অনলাইনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় চারজন আহত হন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস