Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

জুলাই শহীদদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ করার দাবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ করার দাবি জানিয়েছেন জুলাই শহীদ শ্রাবণ গাজীর বাবা। তিনি বলেন, শহীদ ও আহতদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এমন একটি আয়োজন করা উচিত, যেখানে প্রতিবছর তাদের পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হতে পারবেন।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাকসু ভবনের সেমিনার কক্ষে জাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্মৃতিতে জুলাই: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি জানান।

শ্রাবণের বাবা বলেন, ‘আমরা চাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও ১৯৭১ সালের শহীদদের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ করা হোক। ১৬ ডিসেম্বর বা ২৬ মার্চ যেমন সবাই জাতীয় স্মৃতিসৌধে সমবেত হন, তেমনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের স্মরণেও একটি রাষ্ট্রীয় আয়োজন করা হোক।’

ছেলের আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘১৫ জুলাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার দৃশ্য মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি দেখেছিলেন শ্রাবণ। পরে বন্ধুদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ১৫ জুলাই দেশে ফেরার টিকিট কাটেন এবং ১৬ জুলাই সকালে বাংলাদেশে পৌঁছান।’

তিনি বলেন, ‘পরে জানতে পারি, সে আন্দোলনে অংশ নিতেই দেশে ফিরেছিল। বন্ধুদের বলেছিল, ‘আমি এই আন্দোলনের জন্যই বাংলাদেশে এসেছি। যে কোটার কারণে আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারিনি, সেই কোটাব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়তেই আমি দেশে ফিরেছি। কিন্তু পরিবারের কাউকে সে বিষয়টি জানায়নি।’

৫ আগস্টের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘সেদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকামুখী লংমার্চে যোগ দিতে গিয়ে সাভার নিউমার্কেট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শ্রাবণ নিহত হন।’

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছে। কিন্তু এত দিন পরও সেই প্রত্যাশার বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছি না। বিচারও দৃশ্যমান হয়নি।’

শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ফলে অনেক ক্ষেত্রে শহীদদের স্মৃতির যথাযথ মর্যাদা রক্ষা হচ্ছে না। শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয়ভাবে সমন্বিত ও মর্যাদাপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিনিধি/এমআই