নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
শুধু গতানুগতিক শিক্ষা নয়, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, উন্নত বাংলাদেশ গড়তে কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশে আরও চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) ঢাকার সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে ‘ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণসভা ও সৃজনশীল শিক্ষার্থী সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণে কাজ করছে।
বিশ্ববাজারে দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে জনশক্তিকে বিদেশে পাঠানো গেলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, প্রবাসী কর্মীরা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। তাই তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কারিগরি শিক্ষার পরিধি বাড়ানো জরুরি। এ কারণে নতুন চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে একটি মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নবপ্রজন্ম দেশের জন্য যে আত্মত্যাগ করেছে, তা জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী সক্ষমতা অর্জনের বিকল্প নেই। একটি সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তাদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে।
>> আরও পড়ুন
ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. মুস্তাফিজুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত কুমিল্লা সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী হামিদুর রহমান মজুমদার (সাদমান) এবং কিশোরগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সামিদ হোসেনের পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
এছাড়া আন্দোলনে আহত ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এমএইচ/এএস