Dhaka Mail Logo

শিক্ষা

জাতীয়করণসহ কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারীদের ১০ দাবি, না মানলে আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২০ পিএম

শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ, শিক্ষকদের আন্তঃবদলির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং পৃথক কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠাসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদ। দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা আসবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবুল বাশার।

তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের অন্যতম ভিত্তি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, বৈষম্য, প্রশাসনিক জটিলতা ও সুশাসনের অভাবে এ খাত সংকটের মধ্যে রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।’

সংগঠনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে তাদের আয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নেওয়া, সরকারি চাকরির মতো শিক্ষকদের আন্তঃবদলির ব্যবস্থা চালু, দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে অন্তত দুটি করে কারিগরি ট্রেড কোর্স চালু, প্রতি ট্রেডে দুইজন ট্রেড ইন্সট্রাক্টরের পদ পুনর্বহাল, প্রতি মাসের ১ তারিখের মধ্যে বেতন নিশ্চিত করা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও অধিদফতরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

এছাড়া বিএড, উচ্চতর স্কেল ও এমপিও আবেদন পুরোপুরি অনলাইন করা, শিক্ষক-কর্মচারী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সব এমপিওভুক্ত কারিগরি প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ল্যাব স্থাপন, দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, মাধ্যমিক পর্যায়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক (কারিগরি) পদ সৃষ্টি, পৃথক কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, কারিগরি কলেজের সহকারী গ্রন্থাগারিকদের দশম গ্রেড প্রদান এবং নন-এমপিও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত এমপিওভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বাস্তবে এ খাতের শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার। প্রশাসনিক জটিলতা, বেতন-ভাতা প্রদানে বিলম্ব, পদোন্নতির সুযোগের অভাব এবং অবকাঠামোগত সংকটের কারণে কারিগরি শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, সরকারের কাছে তাদের দাবিগুলোর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে লিখিত প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এসব দাবি বাস্তবায়ন হলে শুধু শিক্ষক-কর্মচারীরাই নয়, সরকারও আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং শিক্ষার মান উন্নত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজী, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের সভাপতি প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান, উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাশেদ মোশারফ, এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিষদের সদস্য সচিব আশরাফুজ্জামান হানিফ, বাংলাদেশ ভোকেশনাল শিক্ষক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব নুরুল ইসলাম সিয়ামসহ বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনের নেতারা বলেন, অবিলম্বে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সারাদেশের কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারীরা কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

এমএইচ/এএইচ