নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিষয়কে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পৃথক পাঠ্যপুস্তক অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মাঠে ব্যবহারিক পরীক্ষারও ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে বিতর্ক, কোরআন তেলাওয়াত, সংগীত, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শিক্ষার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে রাজধানীর রূপনগর আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
তিনি বলেন, শুধু বইভিত্তিক পড়াশোনার ওপর নির্ভর না করে শিক্ষাকে আরও আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে সরকার কাজ করছে। খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা এবং নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে পড়াশোনা শিক্ষার্থীদের কাছে ভয়ের নয়, বরং আনন্দের বিষয় হয়ে উঠবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী একটি আনন্দময় শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। খেলাধুলা বিষয়ে লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মাঠে ব্যবহারিক পরীক্ষাও নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা মূল্যায়ন করা যায়।
তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে তারা মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে দূরে থাকবে। পাশাপাশি মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকেও তাদের দূরে রাখা সম্ভব হবে।
আমিনুল হক জানান, রাজধানীসহ সারা দেশে খেলার মাঠের সংকট দূর করতে সরকার ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যেখানে খালি সরকারি জমি থাকবে, সেখানে শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও কাজ করছে।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতিদিনের পাঠদানের শুরুতে অন্তত পাঁচ মিনিট নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। একজন শিক্ষার্থী উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করলেও যদি তার মধ্যে সততা, মানবিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ না থাকে, তবে সেই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হয় না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সমাজে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। তাই শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো উস্কানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাবা-মা ও শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। আগামী দিনের নেতৃত্ব তাদের হাতেই থাকবে, তাই জ্ঞান, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও জানান, শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার বাজেট বরাদ্দ করেছে। এই বরাদ্দ যেন প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর কল্যাণে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা-১৪ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, ক্রীড়াবিদ ও শিক্ষানুরাগী মোহাম্মদ মইনুল হক এবং বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি ইসহাক হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা।
এম/এআরএম