নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন নিয়ে গবেষণার বিশাল ক্ষেত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর রিসার্চ অন ন্যাশনালিজম অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (সিআরএনডি) অভিষেক অনুষ্ঠানে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাবি উপাচার্য। এরপর নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন’ গ্রন্থটি একটি গবেষণাধর্মী কাজ। এতে জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন, রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, প্রশাসনিক চিন্তা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, বইটির যতটুকু পড়েছি, তাতে প্রতিটি অধ্যায়ে গবেষণার সুস্পষ্ট ছাপ রয়েছে। লেখক দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র ও রেফারেন্স ব্যবহার করেছেন, যা গ্রন্থটির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানকে নিয়ে গবেষণার বিশাল ক্ষেত্র রয়েছে। তাকে না জানলে এবং তার রাষ্ট্রচিন্তা সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও রাষ্ট্রচিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অপূর্ণ থেকে যাবে। তাই তিনি সবাইকে বইটি পড়ার আহ্বান জানান।
গ্রন্থটির রচয়িতা বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (সিআইডি) ড. মো. রুহুল আমিন সরকার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শনের ভিত্তি ছিল সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা, গণতন্ত্র, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, জাতীয় সংহতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের সমন্বিত দর্শন।
তিনি আরও বলেন, অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, গ্রামকেন্দ্রিক উন্নয়ন, নাগরিকভিত্তিক জাতীয়তাবাদ, সামাজিক সংহতি এবং বাজারমুখী অর্থনীতির মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। তার রাষ্ট্রচিন্তার বিভিন্ন দিক জন লক, রুশো, টকভিল, ডার্কহেইম, অ্যাডাম স্মিথ, হায়েক, জোসেফ নাই, কিওহেন, আর্নেস্ট রেনাঁ, বেনেডিক্ট অ্যান্ডারসন ও অ্যান্থনি স্মিথসহ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক তাত্ত্বিকদের আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, এই আয়োজন শুধু একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা, জাতীয়তাবাদ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
তিনি বলেন, গ্রন্থটিতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদর্শন হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও প্রাথমিক দলিল, আন্তর্জাতিক গবেষণা এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণ সংযোজন করা হলে এর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সিআরএনডি ভবিষ্যতে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সুশাসন, জনপ্রশাসন, মানবাধিকার, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিচালনা করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার (লিংকন) বলেন, জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আদর্শিক ভিত্তি তৈরি করেছে। রাষ্ট্র পরিচালনা, জাতীয়তাবাদ এবং গণতান্ত্রিক চর্চায় তার দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা এখনো বিদ্যমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ শরিফ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, গবেষণাধর্মী বই রচনা অত্যন্ত কঠিন কাজ। ড. রুহুল আমিন সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মানসুরা আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সহসভাপতি সাঈদ ইকবাল টিটু, যুগ্ম সম্পাদক এজমল হোসেন পাইলটসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ এবং গবেষক।
এম/এএইচ