জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১১ জুলাই ২০২৬, ০২:১১ এএম
জাতীয় বৃক্ষমেলায় এবার দেশি ফলগাছের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে বিভিন্ন দেশের বিরল ও বিদেশি ফলগাছের চারা। মেলায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘আপেল ম্যাঙ্গো’ থেকে শুরু করে সদ্য চীন থেকে আনা আপেলের চারাও বিক্রি হচ্ছে। তবে এসব চারার দাম ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
মেলায় অংশ নেওয়া নার্সারিগুলোর দাবি, দেশি আমের পাশাপাশি প্রায় ১০০ প্রজাতির বিদেশি আমের চারা রয়েছে তাদের সংগ্রহে। এসব চারার দাম ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক ও ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশের ফলগাছের কলমের চারাও পাওয়া যাচ্ছে।
উত্তরা থেকে আসা হোসেন নার্সারী কর্মী রিপন বলেন, ‘তাদের স্টলে বিদেশি আম ছাড়াও রাম্বুটান, মালয়েশিয়ান ডুরিয়ান, অ্যাভোকাডো, ম্যাঙ্গোস্টিন, ব্ল্যাক সুরিনাম চেরি, সিলভিয়া চেরি, পার্পল অ্যাভোকাডো, রেড অ্যাভোকাডো, লং অ্যাভোকাডো, লিলিপিলি, মিরাকল বেরি, মামি সাপোতে, বিভিন্ন জাতের বেরি, পাকিস্তানি ও থাই আনার, এসাই বেরি, সাবারা চেরি, সিট্রাসজাতীয় ফল, রেড কলা ও ব্যানানা ম্যাঙ্গোর চারাও রয়েছে।’

হোসেন নার্সারী মালিক হাসান বলেন, ‘তাদের সংগ্রহ প্রায় ১০০ প্রজাতির বিদেশি আমের চারা রয়েছে। অনেক চারাতেই ইতিমধ্যে আম ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের রত্নগিরির আলফানসো, থাইল্যান্ডের হানিডিউ, কিং অব চাকাপাত, কিউজাই, মহাচক, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার আপেল ম্যাঙ্গো, ভারতের তোতাপুরি, ব্রুনেইর কিং অব ব্রুনেই এবং পাকিস্তানের আনোয়ার-রাতুলসহ বিভিন্ন জাতের আম।’
মেলায় বিদেশি ফলের চারার দাম তুলনামূলক বেশি। আপেলগাছের একেকটি চারার দাম ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। বিদেশি আমের চারা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার টাকায়। আর রাম্বুটানের চারা বিক্রি হচ্ছে ২০ হাজার টাকায়।
ফয়সাল নার্সারী স্টলে দেখা যায়, লাল ও সবুজ আপেলের কয়েকটি চারা প্রদর্শন করা হয়েছে। স্টলটির মালিক ফয়সাল আহমেদ জানান, লাল আপেলের প্রতিটি চারার দাম ৩০ হাজার এবং সবুজ আপেলের চারার দাম ৫০ হাজার টাকা।

জানা যায়, মেলা শুরুর কয়েক দিন আগে এসব আপেলের চারা চীন থেকে আমদানি করা হয়েছে। তবে দেশের আবহাওয়া ও মাটির সঙ্গে এসব চারার অভিযোজন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তা সত্ত্বেও স্টলের কর্মীদের দাবি, চারাগুলো বড় আকারের আপেল দেবে। তবে দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত আপেলের কোনো চারা বিক্রি হতে দেখা যায়নি। দর্শনার্থীরা চারাগুলোর দাম জানতে চাইলেও অধিকাংশই দাম বেশি বলে মন্তব্য করেন।
মেলায় ঘুরতে আসা মিরপুরের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি প্রতি বছর বৃক্ষমেলায় আসি। এবার দুটি গাছ কিনেছি। একটি মিষ্টি তেঁতুল, আরেকটি দারুচিনির চারা। বিএডিসির স্টল থেকে মাত্র ৪০০ টাকায় পেয়েছি। অন্য স্টলে কিনলে আরও বেশি দাম পড়ত।’
মেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় বৃক্ষমেলা আগামী এক মাস চলবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এবারের মেলায় মাল্টা, পার্সিমন, সৌদি খেজুর, আঙুর, কমলা, জাবুটিকাবা, কাঁঠাল, লিচু, আলুবোখারা, পিচ, আখরোট, চন্দনসহ বিভিন্ন ফলগাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি গাছের পরিচর্যার জন্য হাড়ের গুঁড়া, ভার্মি কম্পোস্ট ও কোকো ডাস্টসহ বিভিন্ন ধরনের জৈব সারও বিক্রি হচ্ছে।
এমআইকে/এমআই