নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে সরকার। এই নীতিমালার আওতায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন, দায়িত্ব বণ্টন ও পেশাগত উন্নয়নের কাঠামো পুনর্গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি কমানোর লক্ষ্য বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁও তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ শিক্ষক দায়িত্বশীলভাবে পাঠদান করছেন এবং বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার পরিবেশও ইতিবাচক। তবে শিক্ষার্থীদের শেখার মান আরও উন্নত করতে সরকার নতুন কিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে একটি নতুন নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। এতে শিক্ষক নিয়োগ-পরবর্তী প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব বণ্টন, কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন, ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন (সিপিডি) এবং উপজেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম নতুনভাবে সাজানো হবে। কোন শিক্ষক কখন কী ধরনের প্রশিক্ষণ নেবেন, সেটিও এই নীতিমালার আওতায় নির্ধারিত থাকবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমস্যা তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি। অনেক শিশু নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে না। এ সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়বে বলে সরকারের প্রত্যাশা।
ববি হাজ্জাজ বলেন, গত চার মাস ধরে দেশের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে। রাজধানীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত চাহিদা মূল্যায়নের কাজও চলছে। আগামী এক মাসের মধ্যে ঢাকার অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই পরিদর্শনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতির ধরন এক নয়। তবে রাজধানীর বিদ্যালয়গুলোতেও এ সমস্যা রয়েছে। তাই মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ ও সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে, তা নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় একটি শ্রেণিতে পাঠদান করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত পর্যায়ে রয়েছে। তবে কিছু শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট বিষয়ে পিছিয়ে আছে। তাদের জন্য আলাদা সহায়তার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেও পড়া ও লেখায় কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন করতে না পারার বিষয়ে তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে ভিত্তিমূলক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বয়স ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম আরও সহজ ও দক্ষতাভিত্তিক করা হবে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার, ভিডিওভিত্তিক পাঠদান, ডিজিটাল মূল্যায়ন এবং কার্যকর তদারকি জোরদার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এমএইচ/এএস