বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
০১ জুলাই ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) জাতীয় ছাত্রশক্তির এক নেতাকে মারধরের ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক হেনস্তা ও হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা এবং মারতে তেড়ে আসার অভিযোগ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাতীয় ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক উলফাতুর রহমান রাকিবকে মারধরের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা তার বক্তব্য নিতে গেলে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা বাধা দেন। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সূর্যসেন হল ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. সাদমান আল তাছিন সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘সাংবাদিক হইছে তো কী হইছে।’ একই সময় ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আবু হাসনাত মো. রুকনুদ্দিন বলেন, ‘পুরা ঘাড়াই ফেলব মিয়া।’ একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের মারতে উদ্যত হলে উপস্থিত সিনিয়র নেতারা তাদের নিবৃত্ত করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ভুক্তভোগী সাংবাদিক সোহেল রানা বলেন, সংঘর্ষের আশঙ্কার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে যান। সংঘর্ষের পর ছবি, ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহের সময় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদমান আল তাছিন এবং দপ্তর সম্পাদক আবু হাসনাত রুকনুদ্দিন তাদের কাজে বাধা দেন এবং অশালীন ভাষায় গালাগালি করেন।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে এ ধরনের হস্তক্ষেপ ও আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ নয়, জনগণের তথ্য জানার অধিকারও ক্ষুণ্ন করে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও সমকাল–এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মেহেদি হাসান ইমন বলেন, তারা মারধরের শিকার উলফাতুর রহমান রাকিবের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানাকে ধাক্কা দিয়ে সাক্ষাৎকার নিতে বাধা দেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, সাক্ষাৎকার নেওয়া ও বক্তব্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব। এ কাজে দলের কেউ বাধা দিয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরোয়ার্দী বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাদের সঙ্গে হুমকি বা হাতাহাতির কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস