নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ জুন ২০২৬, ০১:১১ পিএম
চলতি বছরের আলিম পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড।
সোমবার (২২ জুন) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দফতর থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা তার প্রতিনিধি এবং ট্রেজারির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট সর্টিং করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ‘মেঘনা’ ও ‘যমুনা’ সেটের প্রশ্নপত্র একই ট্রাংকে সংরক্ষণ করা যাবে না।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা ইউএনওর কাছ থেকে এসএমএসের মাধ্যমে ওই দিনের প্রশ্নপত্রের সেট সম্পর্কে অবহিত করা হবে। নির্ধারিত সেটের পরিবর্তে অন্য কোনো সেটে পরীক্ষা গ্রহণ করা হলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বহন করতে হবে।
পরীক্ষা কেন্দ্রে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও শুধুমাত্র সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। কোনো পরীক্ষার্থী বা কক্ষপ্রত্যবেক্ষকের কাছে স্মার্টফোন কিংবা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সময় গেইটে তল্লাশির মাধ্যমে কক্ষে প্রবেশ করাতে হবে। ছাত্রীদের তল্লাশির জন্য অবশ্যই নারী শিক্ষক নিয়োজিত রাখতে হবে। প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড ছাড়া কোনো বই, খাতা, কাগজপত্র, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো সামগ্রী পরীক্ষার কক্ষে আনা যাবে না।
নকল প্রতিরোধে পরীক্ষার্থীদের আসন ‘জেড’ প্যাটার্নে বিন্যাস করতে হবে, যাতে একজন আরেকজনের উত্তরপত্র দেখতে না পারে। একই সঙ্গে বহুনির্বাচনি পরীক্ষার চারটি সেট—ক, খ, গ ও ঘ—সমানুপাতিকভাবে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বোর্ড জানিয়েছে, সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনি পরীক্ষা বিরতিহীনভাবে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে কোনো অবস্থাতেই ওএমআরের উপরের অংশ আলাদা করা যাবে না। বহুনির্বাচনি উত্তরপত্র, লিখিত উত্তরপত্রের টপ অংশ ও ওএমআর আলাদাভাবে সাজিয়ে হলুদ কাপড়ে সিলমোহরযুক্ত প্যাকেটে বোর্ডে পাঠাতে হবে।
পরীক্ষা পরিচালনায় ভুলত্রুটি কমাতে আরবি বিষয়ের পরীক্ষার দিনে সাধারণ বিষয়ের শিক্ষক এবং সাধারণ বিষয়ের পরীক্ষার দিনে আরবি বিষয়ের শিক্ষকদের কক্ষপ্রত্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও শারীরিক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্যও বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম বা সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত পরীক্ষার্থীরা ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্রুতিলেখক হিসেবে নিতে পারবে এবং বোর্ডের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে। অটিস্টিক পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে। তাদের উত্তরপত্র বেগুনি রঙের কাপড়ে আলাদা প্যাকেট করে বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিদিনের পরীক্ষা শেষে বেলা সাড়ে ১২টার মধ্যে পরীক্ষার্থীর মোট সংখ্যা, উপস্থিতি, অনুপস্থিতি ও বহিষ্কারের তথ্য অনলাইনের মাধ্যমে বোর্ডে পাঠাতে কেন্দ্র প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এম/এমআই