নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ জুন ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা জানান। জাতীয় পর্যায়ের স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অন্যান্য আয়োজন বিষয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন মন্ত্রী।
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গত ২১ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী শুরু হয়। এবারের পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে সাধারণত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র, ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পথ সুগম করতে এবং পরীক্ষা পরবর্তী সময় অপচয় রোধে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এরই ধারাবাহিকতায় চলমান এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে। আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যেই এই পরীক্ষার ফলাফল একযোগে দেশব্যাপী প্রকাশ করা হবে। বোর্ডগুলোকে সেই অনুযায়ী সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে সময়নিষ্ঠতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে সেশনজটের কারণে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। ১৮ বছর বয়সে যেখানে পড়াশোনা শেষ হওয়ার কথা, সেখানে সেশনজটের কারণে অনেকের ২০ বছর পার হয়ে যাচ্ছে।

মিলন বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের পূর্ণ সুবিধা নিতে হলে আমাদের এই সময় অপচয় রুখতেই হবে। শুধু এসএসসি নয়, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের সেশনগুলোকেও আমরা একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসছি। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৩ বছরের কোর্স ৩ বছরে এবং ৫ বছরের কোর্স ৫ বছরেই শেষ করতে হবে, কোনো ওয়েটিং সেশন বা বিলম্ব বরদাশত করা হবে না।
আগামী শিক্ষাবর্ষের এসএসসি পরীক্ষার পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের জুনের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ হয়ে যাবে। সেশনজট পুরোপুরি দূর করতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করে আগামী ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু এবং ৮ ফেব্রুয়ারি শেষ করার একটি খসড়া রুটিন তৈরি করা হয়েছে। তবে রুটিনটি নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের প্রতিক্রিয়া ও মতামত আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে পুনরায় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।
জেবি