মাহফুজুর রহমান
২৩ মে ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
রাজধানীর আলোচিত ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম ঢাকা কলেজ। প্রায় দুই শতকের পুরনো এই কলেজ দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
১৮৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা কলেজ উপমহাদেশে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত পূর্ববাংলার উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল এই কলেজ।
দীর্ঘ ইতিহাসে অসংখ্য রাজনীতিক, শিক্ষক, সাহিত্যিক, প্রশাসক, বিচারপতি, সাংবাদিক ও রাষ্ট্রনায়কের জন্ম দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেমন বেড়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, তেমনি বেড়েছে সংকটও। ঐতিহ্যের ভার বহন করা এই কলেজ এখন একদিকে গৌরবের প্রতীক, অন্যদিকে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, সিট সংকট, রাজনৈতিক উত্তাপ, প্রশাসনিক জটিলতা ও একাডেমিক চ্যালেঞ্জের বাস্তবতায়ও আলোচিত।
অনেক শিক্ষার্থীর মতে, ‘ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়া যতটা স্বপ্নের, এখানে টিকে থাকা অনেক সময় তার চেয়েও বড় সংগ্রাম।’

১৮৪১ থেকে আজ: বদলে যাওয়া এক প্রতিষ্ঠানের গল্প
ব্রিটিশ শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা কলেজ শুরুতে ছিল ঢাকার শিক্ষাবিস্তারের অন্যতম কেন্দ্র। সে সময় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকায় এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজটি ছিল বিশেষ মর্যাদার। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এ প্রতিষ্ঠান।
শুরুতে অল্প কয়েকটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে বহু বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজ ব্যবস্থার অংশ হওয়ার মাধ্যমে কলেজটির একাডেমিক কাঠামোয়ও পরিবর্তন এসেছে। সবশেষে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে সাত কলেজকে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়।
কিন্তু শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও অবকাঠামো সেই তুলনায় বাড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে। পুরনো ভবন, সীমিত শ্রেণিকক্ষ, সংকুচিত আবাসিক সুবিধা এবং অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ কলেজের সামগ্রিক পরিবেশে প্রভাব ফেলছে।

দেশের প্রাচীনতম কলেজগুলোর একটি, কতটা ধরে রেখেছে ঐতিহ্য?
ঢাকা কলেজের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ ঐতিহ্য। এখনো দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ কলেজে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে আসেন। বিশেষ করে সরকারি কলেজগুলোর মধ্যে এটি এখনো অন্যতম আকর্ষণীয় প্রতিষ্ঠান।
কলেজের পুরনো ভবন, লাল ইটের স্থাপত্য, খেলার মাঠ, ছাত্রাবাস ও ক্যাম্পাস সংস্কৃতি এখনো ঐতিহ্যের স্মারক হয়ে আছে। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থীর মতে, বাইরের ঐতিহ্য থাকলেও ভেতরের একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা আগের মতো নেই। কেউ কেউ মনে করেন, ‘ঐতিহ্য এখন অনেকটা পরিচয়ের অংশ, কিন্তু শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন বাস্তবতায় সংকটই বেশি দৃশ্যমান।’
আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা কলেজের ভূমিকা
দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল দীর্ঘদিনের। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কলেজটির শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

স্বাধীনতার পরও জাতীয় রাজনীতিতে ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রভাব লক্ষণীয়। ছাত্ররাজনীতির ক্ষেত্রেও কলেজটির দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করেন, ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক দিক থাকলেও বর্তমানে অনেক সময় সেটি সংঘর্ষ, দখলদারিত্ব ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শিক্ষার্থী বেশি, সুযোগ-সুবিধা কতটা?
বর্তমানে কলেজটিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে শিক্ষার্থীর চাপ দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক, গবেষণা সুবিধা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
কিছু বিভাগে শিক্ষকের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় নিয়মিত ক্লাস পরিচালনায় সমস্যা হয়। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষ ছোট হওয়ায় ক্লাস পরিচালনাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

সাত কলেজ ব্যবস্থার আওতায় প্রশাসনিক সমন্বয় জটিলতা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। পরীক্ষার ফল প্রকাশে বিলম্ব, একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অনিশ্চয়তা ও সেশনজটের আশঙ্কা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে।
অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষার বর্তমান চিত্র
ঢাকা কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে দেশের সরকারি কলেজগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিন ধারাতেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।
তবে শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করেন, পাঠদানের মান ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা আরও উন্নত হওয়া প্রয়োজন। শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা নয়, বাস্তব দক্ষতা ও গবেষণার পরিবেশ বাড়ানোর দাবি রয়েছে।
অনেক শিক্ষার্থী বিসিএস, ব্যাংক চাকরি ও সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিকে মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখেন। ফলে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরিমুখী প্রস্তুতির সংস্কৃতি কলেজজীবনের বড় অংশ দখল করে নিয়েছে।

ল্যাব, লাইব্রেরি ও গবেষণা সুবিধা কতটা আধুনিক?
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কিছু ল্যাবে আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে। ব্যবহারিক ক্লাস পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সবসময় পর্যাপ্ত থাকে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। লাইব্রেরিতে বইয়ের সংগ্রহ সমৃদ্ধ হলেও ডিজিটাল সুবিধা, অনলাইন জার্নাল অ্যাকসেস ও গবেষণাসহায়ক পরিবেশ আরও উন্নত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।
বর্তমান বিশ্বে গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা যেখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, সেখানে সরকারি কলেজ পর্যায়ে গবেষণা সংস্কৃতি এখনো সীমিত এমন মন্তব্যও রয়েছে শিক্ষকদের একাংশের।
কেমিস্ট্রি বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী রিফাত বলেন, ‘সরকারি কলেজ হিসেবে ঢাকা কলেজের কেমিস্ট্রি ল্যাবের সুবিধা বেশ ভালো। ব্যবহারিক ক্লাসগুলো নিয়মিত হয় এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। এছাড়া কলেজ সেমিনার ও লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত বই ও পড়াশোনার পরিবেশ রয়েছে। একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য সেগুলো আমাদের অনেক সহায়তা করে।’

হলে থাকতে কী যুদ্ধ করতে হয়?
ঢাকা কলেজের আবাসিক হলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের আলোচনার কেন্দ্রে। কলেজে ভর্তির পর অনেক শিক্ষার্থীর প্রথম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় আবাসন। সিট সংকটের কারণে অনেক কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী থাকেন। মফস্বল থেকে আসা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বড় সংকট। খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও আবাসিক পরিবেশ নিয়েও বিভিন্ন সময় প্রশ্ন ওঠে।
ক্যান্টিন, টং ও আড্ডা সংস্কৃতি
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের জীবনের বড় অংশ জুড়ে আছে নিউমার্কেট এলাকা। ক্লাস শেষে টং দোকান, ক্যান্টিন ও রাস্তার পাশের চায়ের আড্ডায় জমে ওঠে শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততা। এই আড্ডা শুধু বিনোদনের জায়গা নয়; রাজনীতি, চাকরির প্রস্তুতি, সাহিত্য, খেলাধুলা সবকিছু নিয়েই চলে আলোচনা। নিউমার্কেট কেন্দ্রিক এ সংস্কৃতি ঢাকার ছাত্রজীবনের আলাদা পরিচয় বহন করে। তবে যানজট, ভিড় ও নিরাপত্তা সমস্যা শিক্ষার্থীদের জন্য বেশির সময় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম ইমন বলেন, ‘ঢাকা কলেজের অবস্থান ভালো হলেও নিউমার্কেট এলাকার অতিরিক্ত যানজট শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ। বিশেষ করে ক্লাস বা পরীক্ষার সময় দীর্ঘ যানজটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ে।’

সংঘর্ষের আলোচনায় বারবার ঢাকা কলেজ
বিভিন্ন সময় সংঘর্ষের ঘটনায় জাতীয় সংবাদে এসেছে ঢাকা কলেজের নাম। শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করেন, ঢাকা কলেজ কেন্দ্রিক সংঘর্ষের ঘটনাগুলোর বড় অংশই ঘটে ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। কলেজটির পাশে আরও দুটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, যা কখনো কখনো সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এসব ঘটনার কারণে একাডেমিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়, একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ক্লাস বন্ধ, পরীক্ষা স্থগিত ও নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়। অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক নজরদারি ও সহাবস্থান সংস্কৃতি জরুরি।
মফস্বল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের সংগ্রামের গল্প, শিক্ষার্থীরা কী চায়?
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অসংখ্য শিক্ষার্থীর কাছে ঢাকা কলেজ মানে স্বপ্নপূরণের সুযোগ। কেউ পরিবার ছেড়ে প্রথমবার ঢাকায় আসেন, কেউ টিউশনি করে নিজের খরচ চালান, আবার কেউ চাকরির প্রস্তুতির পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যান।
অনেক শিক্ষার্থী সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও বিসিএস, ব্যাংক চাকরি বা উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখেন। তাদের সংগ্রাম, হতাশা ও সাফল্যের গল্প ঢাকা কলেজের বাস্তবতাকে আরও মানবিক করে তোলে।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী শাহ আলম বলেন, ‘আমরা মূলত একটি শান্তিপূর্ণ ও একাডেমিক পরিবেশ চাই। ঢাকা কলেজের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া অবশ্যই গর্বের বিষয়, এরকম ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠানে গ্রাম, পরিবার এবং নিজ শহর ছেড়ে ভর্তি হতে আসি কিছু স্বপ্ন এবং কিছু বুক ভরা আসা নিয়ে, কিন্তু বাস্তবতা পুরোটাই ভিন্ন ভাবে অবস্থান নেয়। অনেক সময় বিভিন্ন অস্থিরতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থীরা চায় নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা, আধুনিক ল্যাব সুবিধা, গবেষণার সুযোগ এবং লাইব্রেরির আরও উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি আবাসিক হলের সিট সংকট, নিরাপত্তা ও খাবারের মানের মতো সমস্যাগুলোরও সমাধান প্রয়োজন। আমরা চাই ঢাকা কলেজ তার ঐতিহ্যের পাশাপাশি একটি আধুনিক, গবেষণামুখী ও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক।’
সাত কলেজ ব্যবস্থায় ঢাকা কলেজের অবস্থান
অধিভুক্ত সাত কলেজ ব্যবস্থার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা কলেজকে বিবেচনা করা হয়। তবে সাত কলেজ ব্যবস্থার প্রশাসনিক জটিলতা ও সমন্বয়হীনতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে তা অনেকটাই কাটিয়ে উঠবে বলে মন করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা মনে করেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও একাডেমিক কার্যক্রমে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। না হলে বড় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী সোহান বলেন, ‘সাত কলেজ ব্যবস্থার মধ্যে ঢাকা কলেজকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হয়। একাডেমিক পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের মেধা এবং ঐতিহ্যের জায়গা থেকে এখনও ঢাকা কলেজ অন্য কলেজগুলোর তুলনায় আলাদা অবস্থানে রয়েছে।’
সরকারি কলেজগুলোর মধ্যে কতটা এগিয়ে?
সব সংকটের পরও সরকারি কলেজগুলোর মধ্যে ঢাকা কলেজ এখনো অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। ফলাফল, ভর্তি চাহিদা, চাকরির প্রস্তুতির পরিবেশ এবং ঐতিহ্যের কারণে প্রতিষ্ঠানটির আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। প্রতি বছর অসংখ্য শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হতে চান। অনেকের কাছে এটি এখনও স্বপ্নের কলেজ।

ইতিহাস ও বাস্তবতার সন্ধিক্ষণে ঢাকা কলেজ
প্রায় ১৮৫ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী ঢাকা কলেজ এখনো বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। কিন্তু ঐতিহ্যের গৌরব ধরে রাখতে হলে শুধু অতীতের ইতিহাস নয়, বর্তমানের সংকটও সমাধান করতে হবে।
একদিকে রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস, অন্যদিকে আবাসন সংকট, রাজনৈতিক উত্তাপ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, গবেষণার ঘাটতি ও একাডেমিক চ্যালেঞ্জ। এই দুই বাস্তবতার মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে ঢাকা কলেজ।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত আধুনিকায়ন, স্থিতিশীল একাডেমিক পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসনিক উদ্যোগই পারে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে তার মর্যাদার উচ্চতায় পৌঁছে দিতে।
অধ্যাপক একেএম ইলিয়াস বলেন, বাংলাদেশের প্রথম কলেজ হিসেবে ঢাকা কলেজের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তবে ক্লাসরুম, ছাত্রাবাস ও কিছু বিভাগে শিক্ষক সংকট থাকায় শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এরপরও সীমিত অবকাঠামোতে শিক্ষার্থীরা বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো ফল করছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের সহযোগিতায় নতুন ভবন ও আবাসন সুবিধা বাড়ানো গেলে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানবিক ও দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এম/এএইচ