নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ মে ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
দেশের ৬৫ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিশুদের স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন খাবার নিশ্চিত করতে প্রতিটি বিদ্যালয়ের খাবার ব্যবস্থাপনা তদারকিতে স্থানীয় পর্যায়ের মায়েদের সম্পৃক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বুধবার (২০ মে) রাজধানীর বেইলী রোডে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘হলদে পাখি নীল কমল অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের ৬৫ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই খাবারের মান নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে মায়েদের সম্পৃক্ত করা হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের খাবার ব্যবস্থাপনা তদারকিতে অন্তত তিনজন মা থাকবেন, যাতে শিশুদের জন্য মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা যায়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী প্রজন্মকে শুধু দেশের নয়, বিশ্ব নেতৃত্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যক্রমে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের নাগরিক দায়িত্ব, নৈতিকতা, পরিচ্ছন্নতা ও নেতৃত্বের শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিশুরা শুধু বইয়ের পাঠ নয়, বাস্তব জীবন দক্ষতাও শিখবে। তারা কীভাবে ভালো নাগরিক হতে হয়, নিজের জামাকাপড় পরিষ্কার রাখা, বিদ্যালয় ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা, রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখার মতো সামাজিক দায়িত্বও পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে শিখবে। পাঠ্যবই সহজবোধ্য ও আনন্দমুখর করার পাশাপাশি শিশুদের শেখাকে বাস্তবমুখী করতে কাজ করছে সরকার।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার নারী ও কন্যাশিশুর ক্ষমতায়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে। মেয়েরা যেন চিকিৎসক, প্রকৌশলী, পাইলটসহ যেকোনো পেশায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো ক্ষেত্রই তাদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না।
বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি গার্ল গাইডসের জাতীয় কমিশনার (প্রোগ্রাম) প্রফেসর ড. ইয়াসমিন আহমেদ এবং ডেপুটি জাতীয় কমিশনার (প্রশাসন) সাবিনা ফেরদৌস।
এমএইচএইচ/এমআই