বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
০৯ মে ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে কক্ষ বরাদ্দ পেয়েও সিটে উঠতে পারছেন না কয়েকজন শিক্ষার্থী। হল প্রশাসনের কাছে গিয়েও মেলেনি কার্যকর সমাধান। এর প্রতিবাদে হলটির প্রভোস্ট কক্ষে তালা ঝুলিয়ে সেখানেই বিছানা পেতে অবস্থান নিয়েছেন তিন শিক্ষার্থী।
শনিবার (৯ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা এ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
প্রভোস্ট কক্ষের সামনে অবস্থান নেওয়া তিন শিক্ষার্থী হলেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু বকর, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মোবারক উল্লাহ এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর আরিফ। তারা হলটির যথাক্রমে ৩২৫, ২১৫ ও ৩২৭ নম্বর কক্ষ বরাদ্দ পেয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা হলের নিয়ম অনুযায়ী সিট বরাদ্দের জন্য আবেদন করেন। পরে ভাইভায় অংশ নিয়ে মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ পান। কিন্তু কক্ষে গিয়ে তারা কোনো খালি সিট পাননি। বরাদ্দকৃত সিটে আগে থেকেই অন্য শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছিলেন। সংশ্লিষ্ট কক্ষগুলোতে তাদের অতিরিক্ত হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন আরও কয়েকটি কক্ষের শিক্ষার্থীরা। এদিকে হলের কয়েকটি কক্ষে সিট ফাঁকা থাকলেও সেখানে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা। এছাড়া হল প্রভোস্ট নিয়মিত অফিসে আসেন না বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
অবস্থান নেওয়া আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু বকর বলেন, ৩২৫ নম্বর রুমে সিট বরাদ্দ পেয়েছি। ওই কক্ষে আগে থেকেই একজন ছিল। পরে আবার নতুন করে আরও তিনটি সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে সেখানে আমি আর সিট পাচ্ছি না। হলে সিট পাওয়ার পর গত মাসেই আমি মেসের সিট ছেড়ে দিয়েছি। এখন হলে উঠতে না পেরে থাকার জায়গা সংকটে পড়েছি। বর্তমান প্রভোস্টের মেয়াদ আর মাত্র ছয় দিন আছে। তিনি চলে গেলে পরবর্তী প্রশাসন সিট দেবে কি না, তাও জানি না।
শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর আরিফ বলেন, আবেদনের পর আমাকে বৈধভাবে রুম নম্বর দেওয়া হলেও সেখানে গিয়ে দেখি দুই সিটের রুমে ইতোমধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে সেখানে থাকার কোনো পরিবেশ নেই। হলের অনেক রুমেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থীকে বৈধ সিট দেওয়া হয়েছে। অথচ অনেক রুমে এক-দুজন বৈধ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অন্য হলের শিক্ষার্থীরা অবৈধভাবে থাকছেন। এ বিষয়ে হল প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও তারা শুধু ‘দেখছি’ বা ‘ধৈর্য ধরো’ বলে আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা এ কর্মসূচি নিয়েছি।
এ বিষয়ে হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, হলের স্টাফরা আমাকে যে তথ্য দিয়েছেন, তার ভিত্তিতেই সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তথ্যে গড়মিল থাকায় বর্তমানে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকেও আমি কোনো সহযোগিতা পাইনি। বর্তমানে আমি ক্যাম্পাস ছেড়ে বাসায় চলে এসেছি। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের বিষয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না।
প্রতিনিধি/ এজে