বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
০৯ মে ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এক বার্ষিক কর্মশালায় কৃষি গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ জন গবেষক এবং মাঠপর্যায়ে উদ্ভাবনী ভূমিকার জন্য ছয়জন কৃষককে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (বাউরেস) আয়োজিত ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এই গবেষণা অগ্রগতি কর্মশালার উদ্বোধন করেন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি।
এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোরধারী পাঁচজনকে ‘গ্লোবাল রিসার্চ ইম্প্যাক্ট রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ প্রদান করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন অনুষদের আরও ১২ জন গবেষককে সিনিয়র ও জুনিয়র ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়। অন্যদিকে, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগ ও প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্ভাবনী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ছয়জন কৃষককে দেওয়া হয় ‘প্রফেসর ড. আশরাফ আলী খান স্মৃতি কৃষি পুরস্কার-২০২৫’।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ভিসি ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। তিনি গবেষকদের আরও বাস্তবমুখী গবেষণার আহ্বান জানান যাতে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হতে পারেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে বাকৃবির গবেষকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বাউরেসের সাথে ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
বাউরেসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টি এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৬২৬টি গবেষণা প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে ৬৩৮টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই কর্মশালায় মোট ২১টি কারিগরি অধিবেশনে ৫৩৯টি গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপন করা হবে।
আগামী ১১ মে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কর্মশালার সমাপ্তি ঘটবে, যেখানে টেকসই ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গঠনে গবেষণার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
প্রতিনিধি/একেবি