বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
০৩ মে ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে থাপ্পড় মারার ঘটনায় ছাত্রদল নেত্রী সাদিয়া সুলতানা নেলীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রোববার (৩ মে) বিকেল তিনটায় উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন।
তিনি বলেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আমাদের জন্য কষ্টদায়ক এবং বিব্রতকর। অতীতে এসব ঘটনাকে যথাযথভাবে সমাধান না করার কারণে একটার পর একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আমরা অতীতকে ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।
উপাচার্য আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থী আরেকজন শিক্ষার্থীর গায়ে দিবালোকে হাত তুলেছে, এটা সকলে প্রত্যক্ষ করেছে। এ ধরনের কোনো সংস্কৃতি কখনোই কাম্য না এবং এটাকে অবশ্যই আমরা প্রশ্রয় দেব না। সুতরাং নেলীকে অপরাধী সাব্যস্ত করে আমরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এর আগে একইদিন জকসুর ভিপি (সহসভপতি), জিএস (সাধারণ সম্পাদক) ও এজিএস (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক) স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে দুই দফা আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে জকসুর পক্ষ থেকে দুটি দাবি উত্থাপন করা হয়। অভিযুক্ত সাদিয়া সুলতানা নেলীকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভিসি ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ এপ্রিল ক্যারাম খেলাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম ইনডোর গেমসের তৃতীয় দিনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে প্রকাশ্যে থাপ্পড় দেন জকসুর হল সংসদের ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের পরাজিত জিএস প্রার্থী সাদিয়া সুলতানা নেলী।
শুধু তাই নয়, ওই ঘটনার পর ফেসবুক পোস্টে থাপ্পড় দেওয়ার কথা শিকার করে আবারও ক্রীড়া সম্পাদক নাঈমকে হুমকি দেন তিনি। এ ঘটনা সেসময় বড়সড়ো বিতর্কের জন্ম দেয়।
এএইচ