images

শিক্ষা

মধ্যরাতে ঢাকা কলেজ হলে অবৈধ শিক্ষার্থী উচ্ছেদ অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ মে ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

ঢাকা কলেজের আবাসিক হলে অবস্থানরত মেয়াদোত্তীর্ণ ও অবৈধ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ছাড়ার নির্দেশ বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়েছে কলেজ প্রশাসন। শুক্রবার (১ মে) মধ্যরাতে হল কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রতিটি কক্ষে কক্ষে গিয়ে তল্লাশি চালান হল প্রভোস্টরা। মাস্টার্স পরীক্ষা সম্পন্ন করা এবং ২০১৯–২০ সেশনসহ এর আগের সেশনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযানের খবর পেয়ে প্রভোস্টদের মুখোমুখি হওয়া এড়াতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলের বাইরে চলে যান। তবে কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ছাত্রাবাসের সিট বরাদ্দের নিয়ম অনুযায়ী ২০১৫–১৬, ২০১৬–১৭, ২০১৭–১৮, ২০১৮–১৯ এবং সদ্য মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ করা ২০১৯–২০ সেশনের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও হলে অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা হলে অবস্থান করছেন এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীরা আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও দাবি ওঠে।

অভিযান চলাকালে প্রভোস্টরা জানান, ৩০ এপ্রিল ছিল হল ছাড়ার নির্ধারিত শেষ সময়। ১ মে’র মধ্যে সকল মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগ করতে হবে। অনার্স শেষ করার পর পরীক্ষা দিক বা না দিক, হলে থাকার সুযোগ নেই। ২০১৯–২০ বা তার আগের কোনো সেশনের শিক্ষার্থী রুমে অবস্থান করলে তাকে অবিলম্বে হল ছাড়তে হবে—এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম রাখা হবে না।

এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, সবাই একসঙ্গে হল ত্যাগ করলে তারাও নিয়ম মেনে বের হয়ে যাবেন। তবে কেউ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হলে অবস্থান করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তাদের দাবি, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, প্রশাসন মূলত ২০১৯–২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের ওপর বেশি চাপ প্রয়োগ করছে, অথচ আরও পুরোনো সেশনের অনেক শিক্ষার্থী এখনও হলে অবস্থান করছেন। এসব বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া কোন হলে কতজন শিক্ষার্থীর মেয়াদ শেষ হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকাও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রশাসন শুধু নির্দিষ্ট সেশনের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করছে, অথচ আরও পুরোনো শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে হলে অবস্থান করলেও তাদের বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’

আরেক শিক্ষার্থী প্রশ্ন তোলেন, বহু বছর আগে পড়াশোনা শেষ করা শিক্ষার্থীরা কীভাবে এখনও হলে থাকছেন, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

এর আগে, গত ২৩ এপ্রিল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মাস্টার্স শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আবাসিক হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও অনেক মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থী এখনও হলে অবস্থান করছেন।

এম/এমআই