images

শিক্ষা

‘স্মার্ট বোর্ডে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কমে যায়’

নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ মে ২০২৬, ০২:০৯ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেছেন, পাওয়ারপয়েন্ট ও স্মার্ট বোর্ডে লেকচার দেওয়া শিক্ষকদের জন্য সহজ হলেও এতে শিক্ষার্থীদের শেখার গভীরতা কমে যায়। তার মতে, এ ধরনের ক্লাস অনেকটা মুভি দেখার মতো শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে শোনে, কিন্তু ক্লাস শেষে অনেক তথ্যই তাদের মনে থাকে না।

শনিবার (২ মে) সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ইউরোপের কয়েকটি দেশে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, পাওয়ারপয়েন্ট ও স্মার্ট বোর্ড ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ কারণে সেসব দেশে আবার ব্ল্যাকবোর্ড, চক ও বইভিত্তিক শিক্ষায় ফিরে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যাতে স্ক্রিন টাইম কমানো যায়।

অধ্যাপক মামুন বলেন, ‘ডাস্ট-ফ্রি চক দিয়ে বোর্ডে লেখার ফলে লেকচারের গতি স্বাভাবিকভাবেই ধীর হয়, যা শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্কে তথ্য গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে বোঝার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্ল্যাকবোর্ড ও চক পরিবেশবান্ধব এবং দেশে উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আরামদায়ক বা বিনোদনমূলক মনে হলেই কোনো কিছু শিক্ষার জন্য ভালো হয় না। তার ভাষায়, পড়াশোনা হলো জ্ঞানের স্মরণ সৃষ্টি করা, যা অর্জনে মানসিক পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তির প্রয়োজন। তাই এটি সবসময় আনন্দদায়ক না হওয়াই স্বাভাবিক।’

বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এখনো ব্ল্যাকবোর্ড ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী জটিল চিত্র বা ভিডিও দেখানোর জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। তবে সীমিত সম্পদের দেশে সব ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এম/এমআই