images

শিক্ষা / সারাদেশ

বাকৃবিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে মাওলানা ভাসানী হলের ব্যতিক্রমী ফিস্ট

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

০১ মে ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

প্রতিবছর জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জার মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আবাসিক হলগুলোতে ‘ফিস্ট’ আয়োজন করা হলেও, এবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে মাওলানা ভাসানী হলে। বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বিবেচনা করে আলোকসজ্জা কমিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এক অনন্য বার্তা দিয়েছেন হলের শিক্ষার্থীরা। 

একইসঙ্গে হলের কর্মচারীদের সম্মান জানিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘ক্রাউন অব গ্রেস’ নামক এই ফিস্ট।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কেক কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শফিকুল ইসলাম।

এবারের উৎসবের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘ইনক্লুসিভ ডিনার’। সাধারণত গ্র্যান্ড ডিনারে শুধু শিক্ষার্থীরাই অংশ নিলেও, এবার অতিথি হিসেবে হলের কর্মচারীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দিনরাত শিক্ষার্থীদের সেবায় নিয়োজিত থাকা এসব কর্মচারীদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী পরাগ বলেন, ‘মাওলানা ভাসানী হল সবসময়ই ব্যতিক্রমী চিন্তাধারার জন্য পরিচিত। এই ফিস্ট আমাদের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।’

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী দুর্জয় বলেন, ‘গতবার পুরো হলজুড়ে ব্যাপক আলোকসজ্জা করা হলেও এবার তা নেই। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে অনুজদের এই সচেতনতা সত্যিই প্রশংসনীয়।’

তিন দিনব্যাপী এই উৎসবে ছিল বিভিন্ন খেলাধুলা, ফ্ল্যাশ মব, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও গ্র্যান্ড র‍্যালির আয়োজন। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থীদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল উদ্যোগটিই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের এই সচেতনতার প্রশংসা করে মাওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শরীফ আর রাফি বলেন, ‘প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই ফিস্টের সাফল্য কামনা করছি। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় তারা বিদ্যুৎ অপচয় রোধে আলোকসজ্জা কমিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার জন্য তাদের বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আমরা এমন দায়িত্বশীল আচরণই প্রত্যাশা করি।’

প্রতিনিধি/একেবি