নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে ডাকসুর দেওয়া তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ডাকসু নেতারা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে ভিসি কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নেতারা ‘এক দুই তিন চার, আদু ভাই সিট ছাড়’, ‘সিট বণ্টনের নীতিমালা দিতে হবে’, ‘প্রথম বর্ষে বৈধ সিট নিশ্চিত করতে হবে’ এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর আগে তারা উপাচার্যের কার্যালয় সংলগ্ন আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
ডাকসুর এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘৩০ এপ্রিলের মধ্যে সিট বরাদ্দ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি দেখা যায়নি।’ তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে।’
মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘কিছু হলে সিট বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হলেও অনেক হলে এখনো ভাইভা বা প্রাথমিক প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে এ সমস্যা অনেক আগেই সমাধান সম্ভব ছিল। কিন্তু আবেদনপত্র গ্রহণের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।’
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থীর সিটের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের হল ছাড়িয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য সিট নিশ্চিত করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, অছাত্রদের তালিকা প্রণয়নে প্রশাসন গড়িমসি করছে এবং এখনো সিট বণ্টনের সুস্পষ্ট নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি।’
এস এম ফরহাদ বলেন, ‘এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি যেখানে ‘সেশন বাইন্ডিং’ থাকবে এবং রি-অ্যাড নিয়ে হলে দীর্ঘদিন অবস্থানের সংস্কৃতি বন্ধ হবে। পাশাপাশি শিগগিরই ডাকসুর পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাবনা দেওয়া হবে, যেখানে সিট বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প আবাসনের মডেলও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’
এর আগে ২০ এপ্রিল ডাকসু তিন দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলো সব হলের জন্য স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সিট নীতিমালা প্রণয়ন, নীতিমালা অনুযায়ী অযোগ্যদের সিট বাতিল, এবং কেবল বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে অবস্থান নিশ্চিত করা।
এম/ক.ম/