অটোমোবাইল ডেস্ক
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
বর্তমান সময়ে যাতায়াত সহজ করতে ব্যক্তিগত গাড়ি বা চার চাকার ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে কেবল গাড়ি চালাতে পারাই দক্ষ চালকের পরিচয় নয়, বরং রাস্তায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক আইন ও সঠিক ড্রাইভিং নিয়মগুলো মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। একটুখানি সতর্কতা এবং সঠিক নিয়ম না জানার কারণে প্রায়শই বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। তাই চালক হিসেবে রাস্তায় নামার আগে প্রতিটি নিয়মকানুন ভালোভাবে জেনে ও মেনে চলা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।
গাড়ি চালানোর সবচেয়ে প্রথম এবং মৌলিক নিয়ম হলো গাড়িতে ওঠার পরই সিট বেল্ট বাঁধা। চালক এবং সামনের আসনের যাত্রীর জন্য সিট বেল্ট পরা শুধু আইনগত বাধ্যবাধকতায় নয়, এটি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় জীবন রক্ষাকারী হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া গাড়ি স্টার্ট করার আগে রিয়ার ভিউ মিরর এবং সাইড মিররগুলো সঠিকভাবে সেট করে নেওয়া উচিত, যাতে পেছনের ও পাশের সব যানবাহন স্পষ্ট দেখা যায়। সিট এমনভাবে সামঞ্জস্য করতে হবে যাতে ক্লাচ, ব্রেক ও এক্সিলারেটরে পা সহজে পৌঁছায় এবং স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
গাড়ি চালনার সময় নির্দিষ্ট গতিসীমা বা স্পিড লিমিট মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফাঁকা রাস্তা দেখেই গাড়ি অতিরিক্ত গতিতে ছোটানো মারাত্মক দুর্ঘটনার ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে স্কুল, হাসপাতাল বা জনবহুল এলাকার কাছাকাছি আসার আগেই গাড়ির গতি কমিয়ে আনতে হবে। সামনে চলা গাড়ির সঙ্গে নির্দিষ্ট নিরাপদ দূরত্ব বা স্পেস বজায় রাখা আবশ্যক, যাতে হঠাত্ ব্রেক কষলেও পেছনের গাড়িটি ধাক্কা না খায়। লেন পরিবর্তন বা বাঁক নেওয়ার সময় অবশ্যই সঠিক নিয়মে ইন্ডিকেটর লাইট ব্যবহার করে পেছনের চালকদের সংকেত দিতে হবে।
যানজট এড়াতে বা তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে সিগন্যাল অমান্য করা বা ভুল দিক থেকে ওভারটেক করার প্রবণতা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। সবসময় রাস্তার বাঁ দিক দিয়ে গাড়ি চালানো উচিত এবং ওভারটেক করার সময় ডান দিক ব্যবহার করে সাবধানে এগোতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা, চ্যাট করা বা উচ্চস্বরে গান শোনা চালকের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই মনোযোগ সম্পূর্ণভাবে রাস্তার ওপর রাখা উচিত। নিয়মিত গাড়ির ব্রেক, টায়ার প্রেশার, ইঞ্জিন অয়েল ও লাইট পরীক্ষা করাও একজন সচেতন চালকের প্রধান কর্তব্য। সঠিক নিয়ম মেনে গাড়ি চালালে যেমন নিজের ও পরিবারের যাত্রা নিরাপদ হয়, তেমনি সড়কের অন্য সবার জীবনও সুরক্ষিত থাকে।
এজেড