নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রকৃত চাহিদা ও সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ বিষয়ে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ইউজিসি কার্যালয়ে জাইকার একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি বলেন, প্রকল্প নকশা প্রণয়নের আগে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তব প্রয়োজন, অবকাঠামো ও সক্ষমতা সঠিকভাবে যাচাই করা জরুরি।
এ লক্ষ্যে একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি, যাতে জাপান ও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
তিনি আরো প্রস্তাব দেন, প্রকল্পের কার্যকর রূপরেখা তৈরির জন্য একটি ত্রিপক্ষীয় সভা আয়োজন করা যেতে পারে। এতে জাপান ও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় অংশ নেবে।
জাইকা বাংলাদেশের প্রতিনিধি নিশি রিজুকির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকে ইউজিসির একাধিক সদস্য, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাইকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে, যা ২০২৮ সালে শুরু হতে পারে। এর প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে চলতি বছর একটি সমীক্ষা পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ল্যাবভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ, জাপানের উন্নত গবেষণাগারে কাজের সুযোগ, যৌথ ডিগ্রি কর্মসূচি, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ, পিএইচডি বৃত্তি এবং শিল্প-অ্যাকাডেমিয়া সংযোগ জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানায় জাইকা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যদিও মূলত দুটি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তবে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও এর অবকাঠামো ও সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
বৈঠকে জাইকা প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ করবে। এ প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা দ্রুত বাড়বে, যা পূরণে উচ্চশিক্ষা খাতকে আরো শক্তিশালী করা জরুরি।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে গুণগত পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে ইউজিসি প্রায় ১৭০টি বিশ্ববিদ্যালয় তত্ত্বাবধান করছে এবং গবেষণা ও মানসম্মত গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে কাজ করছে। দেশে প্রায় ৫০টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলোর মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এম/এফএ