images

শিক্ষা

শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে ফেরাতে যা যা দরকার, সব করবে সরকার: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে ফেরাতে যা যা দরকার, সরকার সব করবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে প্রয়োজন হলে উপবৃত্তির পরিমাণ বাড়ানোসহ সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর বাদশাহ ফয়সল ইনস্টিটিউটে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে ফেরাতে উপবৃত্তি বাড়ানোর প্রয়োজন হলে সেটিও করা হবে। শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এই পরীক্ষা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। শিক্ষা খাতে উৎসাহ জোগাতে কার্যকর কোনো প্রক্রিয়াই বাদ দিতে চায় না সরকার।

ববি হাজ্জাজ বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা শ্রেণি পরিবর্তনের পর আগের শ্রেণির পাঠ্যবিষয় ভুলে যায়। তবে এটিকে তিনি বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখেন না। কারণ জ্ঞান এমন একটি বিষয়, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ধাপগুলো গড়ে ওঠে। একজন শিক্ষার্থী যদি পঞ্চম শ্রেণির বিষয়বস্তু আয়ত্ত করতে না পারে, তাহলে ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ বুঝতেও তার সমস্যা হবে—এটি স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া।

তিনি আরও বলেন, বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয়। যেহেতু প্রায় সব শিক্ষার্থী একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, তাই এটি একটি সমতাভিত্তিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি করে। মূলত এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে বৃত্তি পরীক্ষার আওতায় আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীকে আনার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে বৃত্তির পরিমাণ বা আর্থিক প্রণোদনার আকারও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

‘এই আর্থিক প্রণোদনা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারকেও উৎসাহিত করবে, যাতে তারা সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী হয়,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সকল শিক্ষার্থীকে ক্লাসরুমে ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন হলে পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। কীভাবে এই আর্থিক প্রণোদনাকে আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের মতামতও কামনা করেন। বিশেষ করে যারা শিক্ষা বিট নিয়ে কাজ করেন, তাদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নিয়ে ভবিষ্যৎ নীতিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, বর্তমানে উপবৃত্তির পরিমাণ ১২৫ টাকা আছে কি না, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং ভবিষ্যতে কীভাবে এটি আরও কার্যকর করা যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বেসরকারি কোটা অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিমালার আওতায় রয়েছে এবং সেই নীতিমালার ভিত্তিতেই বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যেহেতু আগে এই পরীক্ষা বন্ধ ছিল, তাই সেটি পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং বাতিল করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য, এবং এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এএইচ/এএস