images

শিক্ষা / সারাদেশ

যারা মাঠে থেকে আন্দোলন করেনি, তাদের ২৪ এর সংগ্রাম বোঝাটা মুশকিল: হেলাল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

বাংলাদেশ সরকারের ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, আমরা কীভাবে এই আন্দোলনটা (চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান) করেছি, যারা মাঠ পর্যায়ে আন্দোলন করেনি, তাদের জন্য এই সংগ্রাম বুঝাটা মুশকিল। কারণ, প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে দেড় দুই মাস আমার বয়সী একটা লোক আন্দোলন-সংগ্রাম করা খুব কঠিন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত বৈশাখী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকি, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। আহতদের (চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে) পুনর্বাসনে সরকার দায়বদ্ধ। তাদের যেন পরিবারে বোঝা হয়ে না থাকতে হয়, সেই ব্যবস্থা করা হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের পর থেকে এখানে আসা পর্যন্ত আমি যে প্রাণচাঞ্চল্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মনোভাব দেখেছি, তা আমাকে গভীরভাবে আশাবাদী করেছে। এতে আমার মনে হয়েছে, আমাদের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব কষ্ট-ত্যাগ আজ সার্থক হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ, উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

ctg

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, এই দেশ কারো একার নয়। এটি ১৮ কোটি মানুষের দেশ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের যে ধারণা দিয়েছিলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবাইকে একটি অভিন্ন পরিচয়ের আওতায় আনা। পার্বত্য চট্টগ্রামে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি, সেখানে ১৩টি নৃগোষ্ঠীর মানুষসহ বাঙালিরা মিলেই একটি সমৃদ্ধ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সম্মিলন গড়ে তুলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কিছু যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের কিছু যৌক্তিক দাবি রয়েছে, যা আমিও সমর্থন করি। আমি ইতোমধ্যেই রেল ও সড়ক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবের সঙ্গে শাটল ট্রেন সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করেছি, এবং তিনি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। সংসদ অধিবেশন শেষে এটি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করব। এর আগে রেলওয়ের জিএম-এর সঙ্গে কথা বলে আপাতত সমাধানের উদ্যোগ নেব।

আরও পড়ুন

‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মানবপাচার ও মাদকবিরোধী অভিযান শিগগিরই’

তিনি আরও বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ না পেলেও এটি আমার হৃদয়ের খুব কাছের। কারণ, আমার বাবা-মা উভয়ই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাই এই এলাকার সন্তান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য দুটি ডিপিপি ইতোমধ্যে জমা হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে আগামী ১০-১৫ বছর বড় কোনো সমস্যা থাকবে না বলে আমি মনে করি। ঢাকা গিয়ে এগুলো ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করবো।”

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণ চত্বর (জিরো পয়েন্ট) থেকে জারুলতলা পর্যন্ত বৈশাখী শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় জারুলতলায় শুরু হয় বৈশাখী আলোচনা সভা। অন্যদিকে দুপুর ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত মঞ্চ, মুক্ত মঞ্চ, বুদ্ধিজীবী চত্বর ও চাকসু প্রাঙ্গণে শুরু হয় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বলী খেলা, কাবাডি, পুতুলনাচ ও বউচি খেলা।

বিকেল ৩টা থেকে জারুলতলায় চলছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এরমধ্যে রয়েছে জাতীয় সংগীত, বৈশাখের গান, নৃত্য ও লোকজ পরিবেশনা। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠান। এছাড়া দিনব্যাপী আয়োজনে আরও রয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা নাগরদোলা, পালকি, গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি ও বায়োস্কোপ প্রদর্শন।

শুধু তাই নয়, বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী ‘বৈশাখী উৎসব ও উদ্যোক্তা মেলা’র আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও ‘কারুবীথি’। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুদ্ধিজীবী চত্বরে শুরু হয়েছে এই মেলা। চলবে আগামীকাল বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত।

প্রতিনিধি/এসএস