images

শিক্ষা

উৎসবের রঙ আর প্রতিবাদের বার্তায় শেষ হলো ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

উৎসবের রঙ আর প্রতিবাদের বার্তা-এই দুইয়ের মেলবন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা। বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজিত এই শোভাযাত্রায় নানা বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে ঢাবির চারুকলা থেকে টিএসসি এলাকা। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ইস্যুতে প্ল্যাকার্ড ও প্রতীকী মোটিফে উঠে আসে সময়ের কথাও।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৬ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বর্ষবরণের এই শোভাযাত্রা শুরু হয়। এতে অংশ নেন শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ।

du-2

শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর (উত্তর) গেট থেকে শুরু করে শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে ইউটার্ন নেয়। এরপর রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণ ডান পাশে রেখে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে সকাল ১০টার পর আবারো চারুকলা অনুষদে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় বিশ্ব ও দেশীয় নানা ইস্যুর প্রতিফলন দেখা গেছে। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও প্রতীকী শিল্পকর্ম। এসব প্ল্যাকার্ডে পরিবেশ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামাজিক নানা প্রশ্ন উঠে আসে। ‘বাঁচাও সুন্দরবন’, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘ইরানে মার্কিন যুদ্ধ বন্ধ করো’, ‘গণহত্যাকারীদের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করো’, ‘ফসলের লাভজনক মূল্য দাও’, ‘শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধ করো’, ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করো’—এমন নানা স্লোগানে মুখর ছিল শোভাযাত্রা।

du-3এবারের শোভাযাত্রায় মোট পাঁচটি প্রধান মোটিফ রাখা হয়। এগুলো হলো মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়া। মোটিফগুলো আলাদা আলাদা বার্তা বহন করে।

শোভাযাত্রার পুরোটা সময় জুড়ে ছিল ঢোল, বাঁশি ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সুর। ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন সঙ্গীত ও রঙের মেলবন্ধনে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ঢাবির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা–কর্মচারী ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।

du-4ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় উপস্থিত হন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। আরো ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, প্রক্টর ও শিক্ষকরা।

শোভাযাত্রায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শোভাযাত্রার শুরুর দিকে ছিল অশ্বারোহী। তারপর পর্যায়ক্রমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশের পতাকা হাতে শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউট, প্রক্টরিয়াল টিম, সবশেষে শোভাযাত্রার প্রধান ব্যানার।

এমআর