নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা কলেজে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ঢাকেবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক নুরুল ইসলাম।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ১১টায় ঢাকা কলেজের শহিদ আ.ন.ম. নজিব উদ্দিন খান খুররম অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সভায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা এবং প্রশাসনিক নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কলেজ শিক্ষক পরিষদের ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেবেকা সুলতানা লিপি।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বলেন, তোমাদের পরিকল্পনার সঙ্গে আমার পরিকল্পনার কোনো পার্থক্য নেই। বর্তমান সরকারের সাথেও এ বিষয়ে আমার কথা হয়েছে। তোমাদের দীর্ঘদিনের পরিচয়হীনতার সমস্যা ছিল। এখন থেকে তোমরা সবাই ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। তোমাদের কিছু দাবি রয়েছে, সেগুলো অবশ্যই পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে একাডেমিক কার্যক্রম হস্তান্তর করতে বেশি সময় লাগবে না। আমি চাই, তোমরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকো। যদি কোনো শিক্ষককে ক্লাস নিতে অনাগ্রহী দেখো, তাহলে আমাকে জানাবে- আমরা ব্যবস্থা নেব।
তিনি বলেন, আমি মনে করি না যে সব বিষয়ে আমি সবকিছু ভালো বুঝি, তোমরাও অনেক কিছু ভালো বোঝো।
তিনি আরও বলেন, তোমরা অনেক কষ্ট করেছ, অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম করেছ। তোমাদের মা-বাবা তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরাও তোমাদের নিজেদের সন্তানের মতো দেখি এবং এ দায়িত্ব থেকে এক চুলও বিচ্যুত হব না। আমি যেহেতু ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভিসি হিসেবে যোগদান করেছি, তোমরা আমাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
এ সময় নবনিযুক্ত উপাচার্যের কাছে ৭ দফা দাবি উপস্থাপন করেন ঢাকা কলেজের ২০২৩–২৪ সেশনের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক।
দাবিগুলো হলো—
১. একাডেমিক সমন্বয় নিশ্চিতকরণ: অধ্যাদেশ অনুযায়ী আগামী ১ মাসের মধ্যে প্রতিটি ক্যাম্পাসে একজন করে ‘উচ্চশিক্ষা কো-অর্ডিনেটর’ নিয়োগ দিতে হবে, যাতে একাডেমিক কার্যক্রম সুশৃঙ্খল, সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়।
২. বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র একাডেমিক পরিচয় প্রতিষ্ঠা: ২০২৪–২৫ সেশনের শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সকল একাডেমিক নথি—কারিকুলাম, রুটিন, সিলেবাস ও প্রশ্নপত্রে বাধ্যতামূলকভাবে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নাম সংযুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের প্রতিটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের ব্যানার-ফেস্টুনেও এ নাম ব্যবহার করতে হবে।
৩. সেশনজট নিরসন ও সময়োপযোগী পরীক্ষা ব্যবস্থা: শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ৭ মাসের মধ্যে ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা সম্পন্ন এবং পরবর্তী ১ মাসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে, যাতে সর্বমোট ৮ মাসে একটি পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক সেশন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
৪. কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো ও শিক্ষক নিয়োগ: আগামী ৩ মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করতে হবে, যার মাধ্যমে প্রতিটি বিভাগ স্বাধীনভাবে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। পাশাপাশি যেসব বিভাগে শিক্ষক সংকট রয়েছে, সেখানে দ্রুত যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।
৫. আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিকুলাম প্রণয়ন: প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে একটি দক্ষ গবেষণা টিম গঠন করে ৭টি ক্যাম্পাসের সকল বিভাগের জন্য একীভূত, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিকুলাম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে, যেখানে সেমিস্টার পদ্ধতি ও ইংরেজি ভার্সন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
৬. শিক্ষার্থীদের স্বতন্ত্র পরিচয় নিশ্চিতকরণ: শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় সুসংহত করতে অনতিবিলম্বে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নাম সম্বলিত অভিন্ন আইডি কার্ড প্রদান করতে হবে।
৭. সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিকাশ: ডিবেট ক্লাব, ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংগঠনগুলোকে দ্রুত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এসএইচ/এএস