images

শিক্ষা / সারাদেশ

চাকসু সম্পাদক মাসুম বিল্লাহর ওপর হামলা, বিচার দাবিতে মানববন্ধন

জেলা প্রতিনিধি

৩১ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) কাফেটেরিয়া ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহর ওপর হামলার ঘটনায় মানববন্ধন করেছে চাকসু। এসময় হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘বহিরাগতমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘আমার ভাই আহত কেনো, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আজ মাসুম কাল আমি, নিরাপত্তা অনেক দামি’, ‘নো আইডি নো এন্ট্রি’ ইত্যাদি লেখা সম্বলিত প্লেকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানান।

চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন চাকসুর নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা।

চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তওহীদ বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধ করলে অনেক সময় মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপরাধীকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অধিকার প্রশাসনকে কে দিয়েছে? এ কারণেই হামলাকারীদের সাহস বেড়েছে। যার ফলে তারা শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। অপরাধীর কোনো বর্ণ-পরিচয় নেই, তার পরিচয় সে কেবলই অপরাধী। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নিতে হবে।

চাকসুর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, কিছুদিন পরপরই স্থানীয় কিংবা বহিরাগতদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাসুম বিল্লাহর ওপর হামলা হয়েছে। এটি একটি টার্গেট হামলা। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে-কোনো শিক্ষার্থীর ওপর হামলা আমরা সহ্য করবো না। নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সকল শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

চাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, গত আগস্টেও স্থানীয়দের হামলায় আমাদের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী আহত হয়েছেন। এরমধ্যে তিনজন আর কোনোদিন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। বহিরাগতদের কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ক্যাম্পাস অনিরাপদ। একজন নির্বাচিত চাকসু প্রতিনিধিকে যদি প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করবে? আমরা প্রশাসনকে বলছি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে, নয়তো আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

এছাড়াও মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সোহরাওয়ার্দী হল ছাত্রসংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) আবরার ফারাবি এবং চাকসুর উপ-দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত।

উল্লেখ্য, সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ৮টার দিকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এম আলম ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি তেল আনতে গিয়ে অতর্কিত হামলার শিকার হন মাসুম বিল্লাহ। এসময় তাকে ব্লেড ও ক্ষুর জাতীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মাসুম বিল্লাহ। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। 

ঘটনার পর রাত ১২টার দিকে মাসুম বিল্লাহর ভাগিনা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুল হাসান বাদী হয়ে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় হাটহাজারী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শগ্রামের মো. আকবর হোসেনের ছেলে মো. আরিফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়।

এরই জেরে পুলিশ অভিযান চালাকে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে দেলোয়ার হোসাইন মুন্না (২৫) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ। বিকেল ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহিদুর রহমান।

তিনি বলেন, আজ দুপুরে হাটহাজারী এলাকা থেকে দেলোয়ার হোসাইন মুন্না নামের একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিনিধি/এজে