images

শিক্ষা

স্কুলে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় ‘সেফগার্ডিং টুলকিট’ চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্কুলে সুরক্ষা জোরদারে ইউনিসেফ’র সহযোগিতায় বৈশ্বিক ‘সেফগার্ডিং টুলকিট’ চালু করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।

সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ১৫ কোটি শিক্ষার্থী স্কুল বা এর আশেপাশে কোনো না কোনোভাবে সহিংসতার শিকার হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন এবং ইউনিসেফের তথ্যমতে, বিশ্বের প্রতি তিনজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে একজন শিশু, ফলে অনলাইনে শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একইসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রতি সাতজন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে একজন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে, যা অনেক ক্ষেত্রে স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় নীতিমালা থাকলেও তা বাস্তব প্রয়োগে ঘাটতি দেখা যায়। এই টুলকিট সেই ব্যবধান কমাতে সহায়ক হবে। ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, সুরক্ষা কোনো ব্যক্তিগত অনুমান বা অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করতে পারে না; বরং এটি একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া জরুরি। নির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন, তথ্যের সঠিক নথিবদ্ধকরণ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে সমস্যা শুরুতেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

তারা বলছেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা শুধু বাস্তব জগতেই নয়, অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও নতুন ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে। সহপাঠীদের মাধ্যমে সহিংসতা, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে হয়রানির মতো বিষয়গুলো দিন দিন বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি কাঠামোবদ্ধ ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়ে উঠেছে, যা এই টুলকিটের মাধ্যমে নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইউনিসেফ স্পেনের চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার আলমোদেনা ওলাগুইবেল জানান, কার্যকর সুরক্ষা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ওপর নয়, বরং শক্তিশালী ও সুসংগঠিত ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান সময়ে ঝুঁকিগুলো যত জটিল ও অদৃশ্য হয়ে উঠছে, ততই প্রস্তুতি, স্পষ্টতা এবং সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়ানো প্রয়োজন।

এই টুলকিটটি স্কুলের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাতে ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত কমিয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা যায়। এতে দায়িত্ব নির্ধারণ, তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা থাকবে। পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের আচরণকে আলাদাভাবে বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই ঝুঁকি মোকাবিলায় এই টুলকিট স্কুলগুলোকে সহায়তা করবে। অনলাইন গ্রুমিং, হয়রানি, জালিয়াতি এবং এআই দিয়ে তৈরি আপত্তিকর ছবি বা ভিডিওর মতো বিষয়গুলো দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিরোধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বজুড়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগী ২ হাজার ৫০০টির বেশি স্কুলে এই টুলকিট চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থী সরাসরি সুরক্ষার আওতায় আসবে বলে জানা গেছে। স্থানীয় আইন ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি বৈশ্বিক মানদণ্ড বজায় রাখতে এটি স্কুলগুলোকে সহায়তা করবে।


এএইচ/এফএ