নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মার্চ ২০২৬, ০১:২২ পিএম
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক এক ছাত্রীর পা বেঁধে রাখার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফেসবুক পোস্টে নিজেকে উম্মে সালমা পরিচয় দিয়ে ওই ছাত্রী পরিবারের বিরুদ্ধে মারধর এবং জোরপূর্বক তাকে মানসিক রোগী বানানোর অভিযোগ তোলেন।
তবে, পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সালমা মানসিকভাবে অসুস্থ এবং তার চিকিৎসা চলমান। পুলিশ জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত কিছু চিকিৎসার কাগজপত্রও তাদের দেখানো হয়েছে।
সালমার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ঢাবির তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৩১তম ব্যাচের ছাত্রী এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। পড়াশোনার জন্য তিনি ঢাকায় নীলক্ষেতের একটি কর্মজীবী নারী হোস্টেলে থেকে লাইব্রেরিতে নিয়মিত অধ্যয়ন করতেন।
আরও পড়ুন: ঈদের তৃতীয় দিনেও ঢাকা ফাঁকা
তার অভিযোগ, পরিবার তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া পছন্দ করে না। এ কারণে তাকে জোর করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ঈদের পর ঢাকায় ফিরতে চাইলে তার দুই পা বেঁধে রাখা হয়। এছাড়া তাকে জোরপূর্বক মানসিক রোগের ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বড় ভাই তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন। পরিবারের ভেতরের কিছু অনৈতিক সম্পর্ক সম্পর্কে জেনে যাওয়ার কারণে তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। নিরাপদে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার জন্য তিনি সহায়তা কামনা করেন।
এ বিষয়ে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিফাতুল মাজদার জানান, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ওই ছাত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ এবং চিকিৎসাধীন।
আরও পড়ুন: বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা
তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমানে ওই ছাত্রী থানায় অবস্থান করছেন এবং পুলিশের সঙ্গে তার কথাবার্তা স্বাভাবিক রয়েছে। পরিবারের ভাষ্যমতে, ওষুধ সেবনের পর তার আচরণ স্বাভাবিক থাকে, তবে ওষুধ না খেলে আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়।
পুলিশ আরও জানায়, ছাত্রীর শরীরে মারধরের কোনো দৃশ্যমান আলামত পাওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগও জমা পড়েনি। তবে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে, পরিবারের সদস্যদের থানায় ডেকে এনে তাদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। সব দিক বিবেচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এম/এমআই